নিখোঁজদের খুঁজতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বজনদের ভিড়

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৫৬ পিএম

জুরাইনের হালিমা বেগম। কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাবন্দি তালিকায় খুঁজছেন ছেলে বাসারের (২৮) নাম। হালিমা জানান, তার ছেলে জুড়াইনে কাগজের ব্যবসা করে। পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির সাথেও জড়িত। সাত দিন আগে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। থানায় গিয়ে কোন খবর না পেয়ে এখানে এসেছেন। কারারক্ষীরা বলছেন কাশিমপুরে পাঠানো হয়েছে হয়তো। সেখানে গিয়ে খবর নিতে বলা হচ্ছে।

বন্ধু ইয়াকুবকে খুঁজতে এসেছেন নবাবগঞ্চের আবু সাইদ। তিনি বলেন, গত ২৯ অক্টোবর তার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নবাবগঞ্জের পুলিশ। আবু সাইদ ছাত্রদলের রাজনীতি করতো। এরপরে কোথাও খবর না পেয়ে কারাগারে এসেছেন। এখানেও নাম পাচ্ছেন না তার বন্ধুর। কোথায় যাব, কি করব, কোথায় খুঁজবে, কিছুই বোধগম্য হচ্ছে না তার।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজতে প্রতিদিনিই ভিড় জমাচ্ছে তাদের স্বজনরা। গত কয়েকদিনে যারা কারাবন্দিদের তালিকা কারাগারের একটি দেয়ালে টানানো হয়েছে। সেই তালিকাতে কেউ খুঁজছে তার ভাইকে, কেউ ছেলেকে, কেউ খুঁজছেন স্বামীকে।

স্বজনরা জানান, যাদের খোঁজা হচ্ছে বা যারা নিখোঁজ রয়েছে, তারা রাজনৈতিক মামলায় গত কয়েকদিনে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

নিখোঁজদের খুঁজতে আসা স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, যাদের খুঁজতে এসেছেন, তারা কেউ গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশ স্থল থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। কারও নামে রাজনৈতিক মামলা ছিল। গত কয়েকদিনে খোঁজ না পেয়ে সর্বশেষ কারাগারে বন্দি তালিকায় নাম খুঁজতে এসেছে স্বজনরা।

জানা যায়, বিএনপির সমাবেশের পর থেকে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার অভিযান। এতে গত কয়েক দিনে কারাগারে বেড়েছে বন্দির চাপ। বন্দির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে বন্দি ধারণ ক্ষমতা প্রায় সাড়ে চার হাজার। তবে বর্তমানে বন্দি রয়েছে প্রায় ১০ হাজার, যা ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুন। এতো বন্দির চাপ সামলাতে বেগ পেতে হচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষকে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার সুভাষ কুমার বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দী ধারণক্ষমতা সাড়ে চার হাজার। বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি বন্দি হওয়ায় কিছুটা চাপ পড়েছে, তাই সম্প্রতি কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সে নির্মিত তিনটি পুরুষ বন্দি ভবনে কিছু কিছু বন্দিকে পাঠানো হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত