গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এমন যে, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম্যানের পদে থাকা কিংবা না থাকা নিয়ে যুক্তরাজ্যে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়েছে।
গতকাল শনিবার অর্থাৎ ১১ নভেম্বর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির প্রতীকী দিন স্মরণ করে ‘আর্মিস্টিস ডে’ তথা ‘যুদ্ধবিরতি দিবসে’ ফিলিস্তিনপন্থিরা বিক্ষোভ আয়োজন করে। লন্ডনের পুলিশ প্রশাসন বিক্ষোভ বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ না নেওয়ার জেরে সুয়েলা ব্রাভারম্যান মন্তব্য করেন, ‘পুলিশ ফিলিস্তিনিপন্থি বিক্ষোভ নিয়ে পক্ষপাতপূর্ণ আচরণ করছে।’ এ ছাড়া তিনি এর আগেও নানাভাবে প্রকাশ্যে ইসরায়েলপন্থি মনোভাব ব্যক্ত করেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
এ নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যপন্থি আইনপ্রণেতারা (এমপি) বলছেন, ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে ব্রাভারম্যান উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি দুর্বলতার পরিচয় দিচ্ছেন। মূলত এসব অভিযোগ তুলে তাকে সরিয়ে দিতে এসব এমপি প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকসহ আইনসভার চিফ হুইপকে চাপ দিচ্ছেন। তবে ব্রাভারম্যানের পক্ষেও রয়েছেন ৫০ জনের মতো রক্ষণশীল রাজনীতিক।
অবশ্য ওই মন্তব্য করার পর থেকে ব্রাভারম্যান নীরব হয়ে যান। তবে শুক্রবার তিনি লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্যার মার্ক রাউলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা বিবৃতিতে পুলিশের প্রতি সমর্থনের কথা জানানো হয়।
গাজায় বেসামরিক হত্যার প্রতিবাদে প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যসহ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা আরবরা সোচ্চার হয়। লন্ডনে এসব বিক্ষোভ থেকে যুক্তরাজ্যের পুলিশ ঘৃণা ছাড়ানোর অভিযোগে অনেককে আটকও করে। এবার ‘আর্মিস্টিস ডে’-তে আরও বড় বিক্ষোভের পরিকল্পনা করে আরব সম্প্রদায়। ঋষি সুনাক বলছেন, এই দিনে এ ধরনের বিক্ষোভ আয়োজন দিবসটির তাৎপর্যকে অসম্মান করার মতো ব্যাপার।
ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এরই মধ্যে ব্রাভারম্যানের প্রতি তার সমর্থন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন। ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকে ‘ঘৃণা সমাবেশ’ আখ্যা দেওয়ায় জ্যেষ্ঠ রক্ষণশীল মন্ত্রী রবার্ট হ্যালফন তার অসন্তুষ্টির কথা জানান। সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপন্থি আরও বেশ কয়েকজন এমপি ও রাজনীতিক ব্রাভারম্যানের ওপর ক্ষুব্ধ।
