মেহেরপুর

আমনে পোকার আক্রমণ, কীটনাশকেও মিলছে না প্রতিকার

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:০৫ পিএম

পোকার আক্রমণে মেহেরপুরে আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন এবার হুমকির মুখে। পোকা দমনে কীটনাশক প্রয়োগ করেও প্রতিকার মিলছে না। মাজরা পোকার আক্রমণ দমন করতে না পেরে ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় অনাবৃষ্টি ও প্রচন্ড রোদের কারণে এবার রোপা আমন ধানের ক্ষেতে ব্যাপকভাবে বেড়েছে মাজরা পোকা ও লেদা পোকার আক্রমণ। পোকা নিধনে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে চাষিদের।

সরেজমিনে মেহেরপুরের বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা তাদের রোপা আমন ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। অনেকেই আবার পেতেছেন আলোর ফাঁদ। কিন্তু কিছুতেই প্রতিকার পাচ্ছেন না। প্রায় সব জমির আমন ধানে মাজরা ও লেদ পোকাসহ ক্ষতিকর নানা পোকা আক্রমণ করেছে। মাজরা পোকার আক্রমণের কারণে অধিকাংশ ধান গাছের পাতা হলুদ রং ধারণ করেছে। অনেক জমির ধান গাছ প্রায় পাতাশূন্য হয়ে মরে যাচ্ছে। মাজরা পোকা দমনে কৃষকেরা বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহার করছে। কিন্তু কোনো সুফল পাচ্ছেন না।

গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আলীম বলেন, ‘দেড় বিঘা জমিতে ধান গবেষণা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ব্রি-৮৭ ধান রোপণ করেছি প্রায় মাস খানেক আগে। ধানের গাছও ভালো হয়েছে। কিন্তু পোকার আক্রমণে ধান গাছের মূল কাণ্ড শুকিয়ে যাচ্ছে এবং পাতা খেয়ে ঝাঝরা করে ফেলছে। দোকান থেকে কিনে কীটনাশক স্প্রে করেও কোনো উপকার পাইনি। একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকায় গাছ খাওয়া ঠেকানো যাচ্ছে না।

সদর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের কৃষক আজিজুল ইসলাম জানান, এ বছর তিন বিঘা জমিতে সাদা স্বর্ণা জাতের আমন ধান চাষ করেছেন। এখন তারসহ গ্রামের অধিকাংশ কৃষকের জমি মাজরা পোকা ও পাতা খাদক লেদা পোকায় আক্রমণ করেছে। পোকা দমনের জন্য প্রায় সব কৃষক দানাদার পাউডার ও তরল জাতীয় কীটনাশক ব্যবহার করেছে। কিন্তু কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না পোকার আক্রমণ। মাজরার পাশাপাশি ধান গাছে ঘাসফড়িং পোকারও আক্রমণ দেখা যাচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২৬ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৪ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন। এর বাইরে জেলায় এ বছর উচ্চ ফলনশীল ব্রি-৮৭, ব্রি-৭৫, ব্রি-৭২ ও বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। কিন্তু পোকার আক্রমণের কারণে এবার ধানের উৎপাদন নিয়ে তারাও শঙ্কিত। কারণ অন্যান্য জেলায় ভারী বৃষ্টি হলেও এ বছর মেহেরপুর জেলায় তেমন বৃষ্টি হয়নি। এমন অনাবৃষ্টির কারণে আমন ধানে মাজরা, লেদা ও ঘাঁস ফড়িংসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণ বেড়েছে। কীটনাশক স্প্রে করার পাশাপাশি আলোক ফাঁদ ও ফেরোমন ট্যাফ ব্যবহারের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। অনেকেই উপকার পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তাছাড়া খুব সকালে কীটনাশক স্প্রে করারও পরামর্শ দেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত