প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকারের দুই মন্ত্রী, তিন উপদেষ্টা এবং একজন প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করার পরও তারা অফিসে যাচ্ছেন, দায়িত্ব পালন করছেন নিয়মিত। দপ্তরভিত্তিক ওয়েবসাইটগুলোতেও তাদের নাম-পদবি রয়েছে। পদত্যাগ করলেও তা কার্যকর না হওয়ায় তারা বহাল রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যাবে। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর তা কার্যকর হবে। এ বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা জানতে মন্ত্রীপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেনের মোবাইল ফোনে বুধবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি। অন্য কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গত ১৫ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন (ইসি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এর চার দিনের মাথায় গত ১৯ নভেম্বর রবিবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরা তিনজনই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।
সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত না হলেও বিশেষ বিবেচনায় যারা সরকারের মন্ত্রিপরিষদে থাকেন, তাদের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বলা হয়ে থাকে।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর দিন সোমবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অফিসে আসেননি। তবে এরপর থেকে তারা নিয়মিত অফিস করছেন। আর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার পদত্যাগ করার পরদিনই অফিস করেছেন, সই করেছেন চারটি ফাইলে। এখনো তিনি অফিসে যাওয়া-আসা ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ করছেন। বুধবারও ) তারা অফিস করেছেন বলে তাদের নিজ নিজ দপ্তর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিবেকানন্দ রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, মন্ত্রী অফিস করছেন। কিন্তু কোন ফাইলে সই করছেন কিনা তা তার জানা নেই।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা ম. শেফায়েত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, পদত্যাগপত্র কার্যকর না হওয়ায় মন্ত্রী এখনো অফিস করে যাচ্ছেন।
আর পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাখাওয়াত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিমন্ত্রী প্রতিদিনই অফিসে আসছেন। কিন্তু থাকছেন অল্প সময়ের জন্য। এ সময়ে তিনি কোনো ফাইল সই কিংবা গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ করছেন না।
এর আগে গত সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের অফিস করতে বাধা নেই। পদত্যাগপত্র কার্যকর করার পদ্ধতি আছে, সেই প্রক্রিয়াটা আমরা শুরু করেছি। প্রক্রিয়া সম্পন্নের পরে সেটা কার্যকর হবে। তবে পদত্যাগপত্র কার্যকর করতে, ধরা বাধা কোনো আইন নেই যে এতদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।’
২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে টেকনোক্র্যাট কোটায় নিয়োগ পাওয়া মন্ত্রীদের পদত্যাগের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলে তারা পদত্যাগ করেছিলেন। তবে তা কার্যকর হয় এক মাস পর, অর্থাৎ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর ঠিক আগের দিন। বাকি মন্ত্রীরা সবাই রুটিন কাজ করে গেছেন। গত ৩১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালে যেভাবে নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনা করা হয়েছিল, এবারও একই রকম পরিকল্পনা করেছেন তিনি।
সংবিধানে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করার কথা বলতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রীর পদ শূন্য হবে, যদি তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেন। তবে সংসদ সদস্য না হয়েও যারা মন্ত্রিসভায় আছেন তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তা এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ এবং বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা হিসেবে সালমান এফ রহমান দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের মধ্যে সালমান এফ রহমান ছাড়া অন্যরা সংসদ সদস্য নন। তবে সজীব আহমেদ ওয়াজেদের নিয়োগ পুরোটাই অবৈতনিক। অন্যদের মতো তিনি কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন না।
