আন্তর্জাতিক নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। এতে নারায়ণগঞ্জ জেলায় নারী ও কন্যা শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছরে এ জেলায় ৯৭টি ধর্ষণ এবং ৩৯ জন নারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় মহিলা পরিষদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দরা নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলায় নারী ও কন্যা শিশু ধর্ষণের ঘটনা ৯৭টি, হত্যা ৩৯টি, আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার প্ররোচনা ৩৭টি, অপহরণ ২১টি, যৌন হয়রানি ৩২টি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ৪০, যৌতুকের জন্য নির্যাতন ২৭টি, শ্লীলতাহানি ১৭টি, বলাৎকার ১১টি, সাইবার ক্রাইম ১২টি, উত্ত্যক্তকরণ ৫১টি ঘটনা ঘটেছে।
অথচ ২০২২ সালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭৯টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১২টি, ধর্ষণের পরে হত্যা ১১টি, নারী হত্যা ১৩টি, শিশু কন্যা হত্যা ৫টি, উত্ত্যক্তর ঘটনা ৩৬টি, যৌতyকের জন্য স্বামী কর্তৃক হত্যা ৯টি, অপহরণ ৫টি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ৮৭টি, বাল্য বিবাহ ১০টি, আত্মহত্যা ১৭টি, সাইবার ক্রাইম ১৭টির ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসিনা পারভীন বলেন, বিভিন্ন পত্রিকার তথ্য-উপাত্ত থেকে যাচাই বাছাই করে ‘ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্যাতনের প্রকৃত চিত্র আরও অনেক বেশি। লজ্জায় ও প্রভাবশালী মহলের চাপে অনেক ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। এর জন্য প্রতিরোধ গড়ে তyলতে হবে, সবাইকে প্রতিবাদ করতে হবে। আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি আনজুমান আরা আকসির, লিগ্যাল এইড সম্পাদক সাহানারা বেগম, প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ সুজাতা, রীনা আহমেদ সহ প্রমূখ।
