৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ঢুকে অতর্কিতে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এর জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় নির্বিচারে বোমা হামলা এবং এরপর স্থলঅভিযান চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলের এই হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা দাবি করে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠছে। আর ঠিক তখনই পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে, ৭ অক্টোবরে হামাস ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাডে’ ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটিয়েছে, যেগুলোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে ইসরায়েলের হাতে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় নিহতদের মরদেহগুলোর কয়েকটিতে ধর্ষণ-যৌন সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব মরদেহ যারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন তারা এমনটা দাবি করেছেন।
নোভা মিউজিক ফেস্টিভালে চালানো হামাসের হামলার প্রত্যক্ষদর্শীর ভিডিও সাংবাদিকদের দেখিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। যেখানে একজন ভুক্তভোগীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া এক নারীর বিবস্ত্র রক্তাক্ত মরদেহের ভিডিওর কথাও তুলে ধরা হয়েছে, দাবি করা হচ্ছে এই ভিডিও হামাস সদস্যরাই ধারণ করেছিল। আরও কয়েকটি মরদেহের ছবিও যৌন সহিংসতার সাক্ষ্য বহন করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি পুলিশের সরবরাহ করা ভিডিওতে এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, সেখানে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এরপর এক হামাস সদস্য ওই নারীর মাথায় গুলি করে হত্যা করার পরও ধর্ষণ অব্যাহত রাখেন।
মিউজিক ফেস্টিভালের ঘটনায় আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, তিনি সেখানে প্রাণ বাঁচানোর আকুতি , ধর্ষণের শিকারদের চিৎকার শুনেছেন। তিনি দাবি করেছেন হামাস সদস্য অনেককে মৃত জেনেও ধর্ষণ করা থেকে বিরত থাকেনি।
বিবিসিকে ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে এরকম কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী তাদের জিম্মায় আছেন। কিন্তু কয়জন তা জানায়নি, এছাড়া এখন পর্যন্ত নোভার ঘটনায় বেঁচে যাওয়াদেরও কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি।
ইসরায়েলের নারী বিষয়ক মন্ত্রী মে গোলান বলেছেন, ‘সেদিন মিউজিক ফেস্টিভালে ধর্ষণ-যৌন সহিংসতার শিকারদের খুব অল্প কয়েকজনই বেঁচে আছে। বেশিরভাগকেই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে অল্প কয়েকজন গুরুতর আঘাত ও মানসিক সহায়তার জন্য হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন।’
এ বিষয়ে ড.এলকায়াম লেভির নেতৃত্বে একটি বেসামরিক কমিটি গঠন করেছে ইসরায়েল। এই কমিটি তথ্যপ্রমাণ যোগাড় করে ৭ অক্টোবর মিউজিক ফেস্টিভালে যৌন সহিংসতার মতো যুদ্ধাপরাধের দায়ে হামাসের বিচার দাবি করেছে।
তবে হামাসকে নিয়ে এতদিন পর এরকম অভিযোগ উঠলেও বিবিসির প্রতিবেদনে এ বিষয়ে ফিলিস্তিনি সংগঠনটির কোনো মুখপাত্র অথবা লিখিত বিবৃতি তুলে ধরা হয়নি।
