রিজভীর প্রশ্ন

মানবাধিকার দিবসে বিএনপি বিশৃঙ্খলা করতে পারে এ তথ্যের উৎস কি গণভবন

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:২৩ পিএম

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মানবাধিকার দিবসে বিএনপি বিশৃঙ্খলা করতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্য নাকি উনার কাছে রয়েছে। এই গোয়েন্দা তথ্যের উৎস কি সুধা ভবন নাকি গণভবন। আসন্ন তামাশার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা কাহিনী ও নাটিকা রচনা করবেন তার আভাস পাওয়া যায় এসমস্ত কথায়।’

আজ বুধবার (৬ ডিসেম্বর) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনার ক্ষমতালিপ্সা মেটাতে গিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেশের জন্য কলঙ্ক বয়ে এনেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাতজন কর্মকর্তাই নয় র‌্যাবের উপর আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আমেরিকা। এবার নতুন করে আমেরিকা জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশের বিশেষ শাখা সোয়াতকে আর সহযোগিতা করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতি উৎসাহি কর্মকর্তা যারা শেখ হাসিনার ক্ষমতালিপ্সা মেটাতে এভাবে দেশের সম্মান নষ্ট করছেন তাদেরকে অচিরেই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা এই পাতানো সিলমোহরের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বা প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সহযোগিতা করছেন-তাদেরকে আমি বিএনপির পক্ষে থেকে আহ্বান জানাচ্ছি আপনাদের যদি নূন্যতম দেশপ্রেম থাকে, যদি মনুষ্যত্ব থাকে, বিবেক বিবেচনাবোধ থাকে তবে ফিরে আসুন। আপনারা মীরজাফরের উত্তরসূরি হবেন না। প্রজাতন্ত্রের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভাগবাটোয়ারার পাতানোর নির্বাচনে কেউ কোনো সহযোগিতা করবেন না। ভোটাররা ভোটদান থেকে বিরত থাকুন। যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তারা প্রত্যাহার করুন। অন্যথায় এই অমার্জনীয় অপকর্মের জন্য জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না।’

রিজভী বলেন, ‘জনগণ জানতে চায়, গণভবনের তালিকায় শুধুমাত্র নির্বাচনের নামে সিলমোহর দেয়ার জন্য কেন রাষ্ট্রীয় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা লোপাটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে? দেউলিয়া এবং বুভুক্ষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে কেন এই ভোটের নামে করা হচ্ছে ভেল্কিবাজি? কাকে এমপি ঘোষণা দেয়া হবে আর কাকে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হবে সব কিছুই তো প্রস্তুত আছে। এখনি ঘোষণা দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, বিএনপি এখন কুয়াশার মধ্যে মিছিল করে। একথা শুনে সাধারণ মানুষ চাপা হাসি হেসেছে। সবাই জানে কুয়াশার সাথে কাক বা আঞ্চলিক ভাষায় যাকে কাউয়া বলা হয় তার একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যেমন, খ্যাতিমান বাংলা ভাষার কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার লাইনটি এভাবে বলা যায়, ‘হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে, কুয়াশার বুক ভেসে হয়তো একদিন ওবায়দুল কাদের সাহেব আসিবেন আবারও এই কাঠাল ছাঁয়ায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত