আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে আলোচনায় আসন সমঝোতা বা ভাগাভাগির প্রসঙ্গ আসেনি বলে দাবি করেছে দুদলই। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দুজনই নিজেদের মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
গত বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক করে জাপা। তবে তার আগে জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ দলটির কয়েকজন নেতা গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
রাজধানীর ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা আলাদাভাবে অংশগ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, ‘বৈঠকে আসন বণ্টনের প্রসঙ্গ আসেনি, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচনমুখী দলগুলোর সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নাশকতা, গুপ্ত হামলার মতো নির্বাচনবিরোধী অপকর্ম প্রতিহত করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক আলোচনাই ছিল মুখ্য।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই বৈঠকের মূল বিষয়টি ছিল নির্বাচনকে অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু করার জন্য যা করা দরকার তাই করা হবে। নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা হচ্ছে। এজন্য ১৪ দল ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করা নিয়ে মূল আলোচনা হয়েছে। তার ভাষ্য, ‘জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা নিয়ে ঢাকঢোল পেটানোর কিছু নেই।’
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ‘রাজনীতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে কিছু নেই। তবে আমরা এককভাবে নির্বাচন করব, এটা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত।’ জাপা মহাসচিব বলেন, ‘দুদিন ধরে নির্বাচন সামনে রেখে জাপার কী অবস্থান হবে তা নিয়ে সবাই অপেক্ষায় ছিলেন। নির্বাচন কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সিনিয়র নেতারা আমাদের আহ্বান করেন। সেই আলোচনা করতে আমরা বুধবার বৈঠকে বসেছিলাম।’
তিনি বলেন, কীভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করা যায়, ভোটার নিয়ে আসা যায়, সে বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তবে এ সময় ভোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
এবারের নির্বাচনে ৯১ সালের নির্বাচনের মতো জাপার পক্ষে একটা বিপ্লব ঘটতে পারে বলে মনে করেন চুন্নু। তিনি বলেন, ‘তাই আমরা চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। কোনোভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা যাতে ভয়ভীতি দেখাতে না পারে সেই চেষ্টা আমরা করছি।’
