অনলাইনে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৩:২১ এএম

দেশে নগদ লেনদেনের প্রবণতা কমছে। তবে একই সময়ে অনলাইন জুয়া, বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশের মোট নগদ লেনদেনের অর্ধেকের বেশি এখনো ঢাকা বিভাগকেন্দ্রিক। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কৌশলগত বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নগদ লেনদেনের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৬০ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে এসব লেনদেনের মোট মূল্য ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৪৩৬ ট্রিলিয়ন টাকায়।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের মোট নগদ লেনদেনের ৫৪ দশমিক ৬২ শতাংশই হয়েছে ঢাকা বিভাগে। রাজধানীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকা-, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঘনত্বের কারণে নগদ লেনদেনে ঢাকার আধিপত্য সবচেয়ে বেশি।

ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি নগদ লেনদেন হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে, যার অংশ ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং শিল্প-বাণিজ্যের কেন্দ্র হওয়ায় এ বিভাগের অবস্থান দ্বিতীয়। এ ছাড়া খুলনায় ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ, রাজশাহীতে ৮ দশমিক ১০ শতাংশ এবং রংপুরে ৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ নগদ লেনদেন হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শিল্প, কৃষি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণের ফলে এসব বিভাগে নগদ লেনদেনের পরিমাণও বাড়ছে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহ, সিলেট ও বরিশাল এই তিন বিভাগ মিলিয়ে মোট নগদ লেনদেনের ১২ শতাংশেরও কম হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে প্রবাসী আয় বেশি হলেও নগদ লেনদেনের অংশ তুলনামূলক কম। বিএফআইইউর মতে, এটি প্রবাসী আয় ব্যাংকিং ও ডিজিটাল মাধ্যমে বেশি আসার ইঙ্গিত দেয়। আর কৃষিনির্ভর অর্থনীতির কারণে বরিশালে নগদ লেনদেন তুলনামূলক কম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সব বিভাগেই নগদ উত্তোলনের তুলনায় জমার পরিমাণ বেশি। অর্থাৎ, জমা হওয়া অর্থের একটি অংশ পরে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে অথবা সিটিআর (ক্যাশ ট্রানজেকশন রিপোর্ট) দাখিলের সীমার নিচে উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু ঢাকা বিভাগেই নগদ জমা হয়েছে ৫ হাজার ৯১৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন টাকা, বিপরীতে উত্তোলন হয়েছে ৫ হাজার ২৪৬ দশমিক ৩২ বিলিয়ন টাকা। চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে।

এদিকে, অনলাইন জুয়া, বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন (এসটিআর-এসএআর) ২০২৪ সালে বেড়ে ১ হাজার ৪৬টিতে পৌঁছেছে। বিএফআইইউর ভাষ্য, এ ধরনের লেনদেনের বৃদ্ধি অর্থপাচার ও অন্যান্য আর্থিক অপরাধের ঝুঁকি বাড়ার ইঙ্গিত বহন করে।

বিএফআইইউ জানায়, নগদ লেনদেনের প্রবণতা নিয়মিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন খাতে ঝুঁকি বেশি, কোথায় অস্বাভাবিক লেনদেন হচ্ছে এবং নগদ অর্থের ব্যবহারে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে, তা চিহ্নিত করা হয়। এসব বিশ্লেষণের তথ্য তদারকি জোরদার, নীতিনির্ধারণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তা করে।

এ প্রসঙ্গে পলিসি থিংক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টারের (পিটিআইআরসি) চেয়ারম্যাান মাজেদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, নগদ লেনদেন কমে আসা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তরের ইতিবাচক ইঙ্গিত। তবে নগদ লেনদেন কমলেও অনলাইন জুয়া, বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক লেনদেন বেড়ে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়। কারণ ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীরাও প্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে অর্থপাচার ও অবৈধ অর্থ স্থানান্তরের নতুন পথ খুঁজছে। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আর্থিক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত