ইংল্যান্ড বোর্ডকে না জানিয়েই ক্রিকেট খেলে ফেললেন আর্চার

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:৩৪ পিএম

২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের জার্সিতে অভিষেক হয় বিশ্ব ক্রিকেটের এক উঠতি তারকা পেসারের। নাম তার জফরা আর্চার। কৃষ্ণাঙ্গকায়, হাফ পনিটেইল চুলের স্টাইলে লর্ডস টেস্টে চির প্রতিদ্বন্দ্বি অজি ব্যাটারদের কাঁপিয়ে দিয়ে নিজের নাম জাহির করেছিলেন। তখন থেকেই ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ভক্তদের মনের আশ মিটে যাবার যোগাড়। পাওয়া গেছে আরেকজন পেসতুরুপকে। ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সুপার ওভার করতে তার হাতেই বল তুলে দিয়েছিলেন ক্যাপটেন মরগ্যান। বিশ্বকাপ জেতা এ তরুণ তুর্কীকে নিয়ে দেখা ইসিবির স্বপ্নস্রোতে বাদ সাধতে আসে ইনজুরি। কনুইয়ের ওই পিছু না ছাড়া ইনজুরি থেকে বেশ কবার ফিরি ফিরি করেও ফেরা হয়নি আর্চারের।

অবশেষে তাই কঠিন পথই বেছে নিয়েছে ইসিবি। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রেখেই জফরার সকল ক্রিকেটীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রেণের দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে বোর্ডটি। অথচ সেই আর্চারই কি না এমন একটি কাজ করে বসলেন যার সম্পর্কে কিছুই জানে না তার বোর্ড। বোর্ডকে না জানিয়েই নিজের প্রাক্তন স্কুলের হয়ে খেলেছেন বার্বাডোজের ডিভিশন ১ ক্লাব ক্রিকেটে।

খুব করে চেয়েও ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে ইসিবি সুস্থ করে তুলতে পারেননি আর্চারকে। তাই স্কোয়াডে না থাকলেও দলের সঙ্গে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। জঘন্য একটি আসর কাটিয়ে নতুন শুরুর প্রত্যাশায় উইন্ডিজ সফরে এখন থ্রি লায়ন্সরা। সেখানেও দলের সঙ্গে গেছেন জফরা, ইসিবিই পাঠিয়েছে। ধুঁকতে থাকা ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজে হেরে গেছে। আর কাল ভোর থেকে বার্বাডোজে শুরু হবে টি২০ সিরিজ। বার্বাডোজ- জফরা আর্চারের জন্মভূমি। বার্বাডোজের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়েও খেলেছেন। ২০১৫ সালে ২০ বছরের টগবগে জফরা তার পর পাড়ি জমিয়েছিলেন নিজের জন্মভূমি ছেড়ে ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ডে।

ইংল্যান্ড দল যখন উইন্ডিজে তখন বার্বাডোজে চলছে বার্বাডোজ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ডিভিশন ১ চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানে ৯ম সিরিজের তিন দিনের ম্যাচে মাঠে নামে ক্রাইস্টচার্চ ফাউন্ডেশন ও লর্ডস নামে দুটি স্কুল। রেলিগেশনের শঙ্কায় থাকা ক্রাইস্টচার্চ ফাউন্ডেশনেই নিজের শিক্ষা জীবন পাড় করেছেন জফরা। তাদের ডাকে তাই সাড়া না দিয়ে পারেননি। রবিবার খেলতে নেমে যান। ১৮ রান দিয়ে ৪টা উইকেট নেন। যার তিনটি ডানহাতি পেস বোলিংয়ে, আরেকটি বাঁহাতি স্পিনে। ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রানও করেন। নিজের স্কুলের হয়ে খেলতেই পারেন জফরা, তবে সমস্যা বাধে তখন যখন ইসিবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কি গণমাধ্যমে জানান আর্চারের এই ম্যাচে খেলা সম্পর্কে ‘কিছুই জানেন না’ তিনি। তার মানে ইসিবির কাছ থেকে অনুমতি না নিয়েই নিজের স্কুলের হয়ে খেলেছেন জফরা, যা কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা একজন ক্রিকেটার কোনোভাবেই করতে পারেন না।

কনুইয়ের ইনজুরির কারণে ২০২১ সালের পর থেকে আর টেস্ট খেলেননি আর্চার। সঙ্গে আছে পিঠের চোটও। তবে এ বছর জফরা আইপিএল খেলতে চেয়েছিলেন। রব কি নিজেই জানান এ তথ্য। ইসিবি ছাড় দেয়নি তাকে। কি বলেন, ‘আমরা কঠোরভাবে তার পূনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছি। এক-দুমাস না খেলার কারণে যদি ক্রিকেট ক্যারিয়ার কয়েক বছর বেড়ে যায় তাতে আখেরে জফরারই লাভ। ও আমাদের কাছে সোনার মতো দামী অর্থাৎ অমূল্য।’

একজন ক্রিকেটারকে এভাবে মূল্যায়নের পরেও বোর্ডকে না জানিয়ে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেওয়া তাই স্বাভাবিকভাবেই বড় আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। জফরা ইংল্যান্ডের জার্সিতে ১৩ টেস্ট ও ২১ ওয়ানডে ও ১৫টি টি২০ খেলে ১০২টি উইকেট শিকার করেছেন। এখন দেখার বিষয় ইংল্যান্ডের বোর্ড তার প্রিয় ক্রিকেটারের এ কাজকে কোন দৃষ্টিতে দেখে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত