বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর নতুন মিশন শুরু হলো এক দুঃস্বপ্ন দিয়ে। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন ওয়ানে নিজের অভিষেক ম্যাচেই হ্যাম্পশায়ারকে নিয়ে চরম লজ্জার মুখে পড়েছেন এই প্রোটিয়া কোচ। এসেক্সের বিপক্ষে ইনিংস এবং ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে মাঠ ছেড়েছে ডমিঙ্গোর শিষ্যরা।
ক্রিচলির একার কাছেই হারল হ্যাম্পশায়ার
সাউদ্যাম্পটনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে হ্যাম্পশায়ার যেন স্রেফ দর্শক হয়েই ছিল। এসেক্স তাদের প্রথম ইনিংসে ৪৬১ রানের পাহাড় দাঁড় করায়, যার মূল কারিগর ছিলেন ম্যাট ক্রিচলি (১৭৩)। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ডমিঙ্গোর শিষ্যরা প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায়। ৩০৫ রানে পিছিয়ে থেকে ফলো-অন করতে নেমেও ভাগ্য বদলায়নি তাদের; দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬৮ রানেই শেষ হয় হ্যাম্পশায়ারের লড়াই।
ম্যাচের নায়ক ম্যাট ক্রিচলি ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করার পর বল হাতেও হ্যাম্পশায়ারকে নাচিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯ রান খরচ করে ৫টি উইকেট তুলে নেন তিনি।
ডমিঙ্গোর সেই পুরনো 'ব্যাটিং রোগ'
বাংলাদেশে থাকাকালীন ডমিঙ্গোর অধীনে ব্যাটারদের ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে অনেক সমালোচনা হতো। হ্যাম্পশায়ারে গিয়েও যেন সেই একই ভূত তাড়া করছে তাকে। দুই ইনিংস মিলিয়েও তারা এসেক্সের এক ইনিংসের রান পার করতে পারেনি। গত মৌসুমে রেলিগেশন থেকে বাঁচা হ্যাম্পশায়ার এবার ডমিঙ্গোকে এনেছিল ভাগ্য বদলাতে, কিন্তু প্রথম ম্যাচেই 'হরর স্টার্ট' বা ভয়াবহ শুরুর পর ডমিঙ্গোর কোচিং দর্শন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
একনজরে স্কোরকার্ড:
* এসেক্স: ৪৬১/৭ (ডিক্লেয়ার)
* হ্যাম্পশায়ার: ১৫৬ ও ১৬৮ (ফলো-অন)
* ফলাফল: এসেক্স ইনিংস ও ১৩৭ রানে জয়ী।
পুরো ম্যাচে হ্যাম্পশায়ার পেয়েছে মাত্র ২ পয়েন্ট, যেখানে এসেক্স পূর্ণ ২২ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। ডমিঙ্গোর জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের এই ভেঙে পড়া মনোবল জোড়া দিয়ে পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো। অন্যথায় কাউন্টিতে তার টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
