মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান, পাঁচ চিকিৎসকসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা মেডিকেল প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডির মুখপাত্র বিশেষ পুলিশ সুপার আজাদ রহমান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সোম থেকে বুধবার পর্যন্ত দিনাজপুর, নীলফামারী, ঢাকা জেলায় অভিযান চালিয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে আরো গ্রেপ্তার হন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বিটস কোচিংয়ের পরিচালক আবদুল হাফিজ হাপ্পু এবং পাঁচ চিকিৎসকসহ ৯ জন। তাদের কাছ থেকে চক্রের অন্য সদস্য ও অসাধু উপায়ে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া অসংখ্যা শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- ডা. ফয়সাল আহমেদ রাসেল, রায়হানুল ইসলাম সোহান, বকুল রায় শ্রাবণ, ডা. সোহানুর রহমান সোহান এবং ডা. তৌফিকুল হাসান রকি, ডা. ফয়সাল আলম বাদশা এবং ডা. ইবরার আলম।
সিআইডি জানায়, এ চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া মুন্নু। তার ডায়েরি থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা চক্রের সদস্যদের সন্ধান মেলে। ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ ২০১০ সাল থেকে প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত। তিনি ২০১৭ সালে মেডিকেল প্রশ্নফাঁসের অন্য আরেকটি মামলারও আসামি। উত্তরবঙ্গের অসংখ্য শিক্ষার্থীকে অনৈতিক উপায়ে মেডিকেলে ভর্তি করিয়ে কোটি টাকা আয় করেছেন সাজ্জাদ। ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার একাধিক আসামি তার নাম বলেছে এবং জসীমের ডায়রিতেও তার নাম-ফোন নম্বর ছিল।
বিটস কোচিংয়ের পরিচালক আবদুল হাফিজ হাপ্পু একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক। পূর্বে গ্রেপ্তার ডা. জিল্লুর হাসান রনির মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের অনৈতিক উপায়ে মেডিকেলে ভর্তি করিয়েছেন। ইতোমধ্যে তাদের বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছে সিআইডি।
২০১৩ সালে তার কাছ থেকে প্রশ্ন পেয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল ভর্তি হন ডা. সোহান। পরবর্তীতে তিনি বিসিএস স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে পার্বতীপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন।
অন্যদিকে ২০১০ সালে ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদের কাছ থেকে প্রশ্ন পেয়ে ডা. ফয়সাল জাতীয় মেধায় ১১তম স্থান লাভ করেন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। এরপর যক্ষা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সার্ভেইলান্স মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। তিনি পরবর্তীতে প্রশ্নফাঁস ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
পূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া ডা. জিল্লুরের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন ডা. তৌফিকুল। তারা দুজনই রংপুর মেডিকেল থেকে পাশ করেছেন। সেই সুবাদে প্রশ্নফাঁসের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। তৌফিকুল বিটস কোচিংয়েও ক্লাস নিতেন। তিনি হাপ্পু এবং জিল্লুরের সঙ্গে মিলে অনৈতিক উপায়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে দেশের বিভিন্ন মেডিকেলে ভর্তি করিয়েছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা ডা. ইবরার আলমও ডা. জিল্লুরের সহযোগী ছিলেন। ইবরার ২০১৩ এবং ২০১৫ সালের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন সরবরাহ করেছিলেন, যাদের অনেকেই বিভিন্ন মেডিকেলে চান্স পেয়েছে।
অপরদিকে গ্রেপ্তার রায়হানুল ইসলাম সোহান এবং বকুল রায় শ্রাবণ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার বাসিন্দা। দুজনই একই স্কুলে পড়ার সুবাদে ঘনিষ্ট ছিলেন। রায়হানুল ২০১৫ সালে তার এক মামার মাধ্যমে মেডিকেলের প্রশ্ন পান এবং তা বকুলকে সরবরাহ করেন। বকুল তার চার ভর্তিচ্ছু ছোট ভাইয়ের কাছে সেই প্রশ্ন বিক্রি করে। চারজনই দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে।
গ্রেপ্তার ডা. সাইফুল আলম বাদশা ২০১০ সালে ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। এরপর প্রশ্নফাঁস ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ২০১৩ এবং ২০১৫ সালে তিনি একাধিক শিক্ষার্থীকে প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে মেডিকেল ভর্তি করিয়েছেন বলে জেনেছে সিআইডি।
