বিএসএমএমইউ’র সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের বর্ষপূর্তি উদযাপন

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:২৩ পিএম

গত এক বছরের রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ৫টি সেন্টারের ২০টি বিভাগে মোট ৪১ হাজার ৫৯৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময় ৫টি বিভাগে ল্যাবরেটরি সার্ভিসেসের আওতায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে ৯১ হাজার ৯৫২টি।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রসুল আমিন। 

বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের ৫টি সেন্টারের ২০টি বিভাগে গত এক বছরে মোট ৪১ হাজার ৫৯৬ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। এ সময় বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি, ভাইরোলজি, হেমাটোলজি ও ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগ- মোট ৫ বিভাগে পরীক্ষা করা হয়েছে ৯১ হাজার ৯৫২টি। রেডিওলজি এন্ড ইমের্জিং বিভাগে মোট পরীক্ষা হয়েছে  ৬ হাজার ৮৭০টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৭৭টি এমআরআই, ১ হাজার ১০৭টি সিটি স্ক্যান, ২৯টি বিএমডি, ১ হাজার ৮০৯টি আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ২ হাজার ৪৭টি এক্স-রে ও একটি ১ টি ম্যামোগ্রাফি করা হয়েছে।

কার্ডিওভাস্কুলার এন্ড স্ট্রোক সেন্টারের আওতায় ৩ হাজার ৯৭২টি এবং হেপাটোবিলিয়ারি, হেপাটোলজি এন্ড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের আওতায় ১ হাজার ২৫টি পরীক্ষা করা হয়েছে।
 
এই এক বছরে এই হাসপাতালে কিডনি ডিজিজ এন্ড কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের আওতায় ডায়ালাইসিস হয়েছে ২৭৯টি ও ১৬টি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে ৯৭টি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আইসিইউ, আন্তঃবিভাগে রোগীর সংখ্যা বাড়াতে চাই এবং পহেলা জানুয়ারিতে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এক্সিকিউটিভ চেকআপ রুম চালু করতে চাই। কোনো রোগী যেনো চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে না যায়, সেই স্বপ্ন পূরণে দেশের মধ্যেই সব রোগের চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। দেশেই স্বল্প খরচে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। 

উপাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে থেকে আমরা সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি পেয়েছি। গত ২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী এই হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। এখানে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট, জোড়া শিশু আলাদা, জয়েন্ট অ্যান্ড হিপ রিপ্লেসমেন্টসহ অনেক মানসম্পন্ন সফল অস্ত্রোপচার করেছি। বন্ধ্যাত্বের জন্য রোগীরা বাইরে যায়। এখানে থেরাপির মাধ্যমে টেস্টটিউব বেবি করেছি। জোড়া শিশু আলাদা করছি। ৩ লাখ টাকায় এখানে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হবে। বিদেশে এর খরচ ৪০ লাখ টাকা। ২০ লাখ টাকায় লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হবে, যেটার বিদেশে খরচ এক কোটি টাকা। 

হাসপাতালের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দুপুরে পতাকা উত্তোলন, পায়রা অবমুক্তকরণ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের ওয়েবসাইট, অনলাইন প্যাশেনন্ট এপোয়েন্টমেন্ট সিস্টেম, ইস্যু ট্রাকার সিস্টেম ও স্মার্ট কার পার্কিং সিস্টেম কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল্লাহ আল হারুন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বনিক, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহ নিজাম উদ্দিন শাওন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত