বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির প্রয়োগ সংক্রান্ত এক কর্মশালায় বক্তারা বলেছেন, বায়ুদূষণে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতি বছর ৮০ হাজার মানুষ মারা যায়। আর এই কারণে বছরে জিডিপির ক্ষতি হয় শতকরা ৮ ভাগ।
বলা হয় ভারত থেকে উন্মুক্ত আকাশ বেয়ে দূষিত বাতাস বাংলাদেশের বাতাসকে দূষিত করছে। তাছাড়া স্থানীয় ইটভাটা, উন্মুক্ত স্থানে জ্বালানি, উন্মুক্ত ময়লা আবর্জনা ও ট্রাকে উন্মুক্তভাবে মাটি বালি পরিবহন বায়ুদূষণ করছে। তাই বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিতভাবে সকল সংস্থা, জনপ্রতিনিধির সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বক্তারা।
তারা বলেছেন, বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি, মনিটরিং, সমন্বয় হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় সংস্থা সমূহের মধ্যে আন্ত:সমন্বয় থাকলে নগরবাসির স্বস্থি আসবে।
আজ রবিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে এই কর্মশালায় বিশেষ অথিথি ছিলেন, পরিবেশ,বন ও জলবায়ু বায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড.ফারহিনা আহমেদ, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি সমন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আলী হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বাতাস এমন একটি মাধ্যম যা ধনী গরীব সবার স্বাস্থ্যের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। বায়ু দূষণের উপাদান সমূহ যেমন—বস্তুকণা, সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড কার্বন, মনোক্সাইডসহ বিভিন্ন দূষণের পরিমাপ করে সেসব দূষণ প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বায়ু দূষণের উৎস ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাদির উপর বহুবিধ অংশীজন জড়িত। সেজন্য সকল অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ব্যতীত এ দূষণ নিয়ন্ত্রণের কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়।
পরিবেশ,বন, ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড.ফারহিনা আহমেদ বলেন, বছরে সাড়ে ১৩ কোটি টান মাটি ইটভাটায় ব্যবহার হয়। এতে পরিবেশ ক্ষতির পাশাপাশি বর্জ্য পোড়ানোর কারণে ১৮ ভাগ এবং ইটভাটায় ১১ ভাগ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ যানবাহনের ব্যবহারেও বায়ু দূষণ করে। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে যনবাহন পরীক্ষার জন্য বিআরটিএতে ৪টি পরীক্ষাগার স্থান করা হয়েছে। পাশাপাশি উম্মুক্ত সোলণার কুকার স্থাপানের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে অনেকাংশে বায়ুর মান উন্নীত হবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ এ শওকত চৌধুরী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধানবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বি.জে মনিরুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক ড.জিয়াউল হক, আমিরুল ইসলাম, ড.আব্দুস সালাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মতিউর রহমান, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের আকাশ পত্রিকার উপাদেষ্টা সম্পাদক মোতাহার হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতের প্রধান প্রকৌশলী এম এ আক্তার হোসেন, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থপনার পরিচালক তাসকিন এ খান, উপসচিব আমিনূল এহসান প্রমূখ।
