শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ড পেয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী এবং গ্রামীণ টেলিকমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার ঢাকার শ্রম আদালতে এসে নিজের সাজার রায় শোনেন তিনি।
রায়ের পর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আদালতের বাইরে এসে সাংবাদিকদের সামনে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন এই অর্থনীতিবিদ।
শুরুতেই দিনের আবহের কথাটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড.ইউনূস বলেন, “আজকে ইংরেজি বছরের প্রথম দিন। সারা দুনিয়া এটা পালন করে বছরের প্রথম দিন হিসেবে। এটা আনন্দের দিন হিসেবে সবাই উৎসব করে।”
“২০২৪ সালের প্রথম দিন আজকে। আমরা আজকে আদালতে আসছিলাম রায় শোনার জন্য। এসে মনটা ভরে গেল, আমার বহু বন্ধু-বান্ধব এখানে পেয়ে গেলাম, যাদের সঙ্গে আমার বহুদিন দেখা হয় নাই। এরা আজকে এসছে, এই আনন্দের দিনে। যে কী রায় হয় এটা দেখার জন্য,আমার কী অবস্থা দাঁড়াল। আমি কিন্তু খুবই খুশি তাদের দেখে। আমি কিন্তু খুবই খুশি তাদের দেখে। মনটা ভরে গেল। বহুদিন পরে যারা বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে, ছুটিতে এসেছে। এক জায়গায় একত্র হওয়ার সুযোগ পেলাম আমরা শ্রম আদালতে এসে।”
এরপর ড. ইউনূস আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “যে রায় পেলাম, যে দোষ আমরা করি নাই, সেই দোষের ওপরে শাস্তি পেলাম। এইটা আমাদের কপালে ছিল, জাতির কপালে ছিল, আমরা সেটা গ্রহণ করলাম।’
মামলার রায়ের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'ব্যারিস্টার মামুন সাহেব (ড. ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন) ব্যাখ্যা করবেন। তবে আমাদের মনে দুঃখটা রয়ে গেল আজকে। এই আনন্দের দিনে এই আঘাতটা পেলাম।'

প্রতিক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে রায় নিয়ে নিজের অনুভূতি পুনর্ব্যক্ত করে ইউনূস বলেন, “যে দোষ করি নাই, সেই দোষে শাস্তি পেলাম। এটাকে ন্যায়বিচার যদি বলতে চান, তাহলে বলতে পারেন।”
গতকাল দুপুর ৩টায় শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেন আদালত।
