বেতন বাড়ানোর দাবিতে ইংল্যান্ডে ছয় দিনের ওয়াকআউট কর্মসূচি শুরু করেছে জুনিয়র চিকিৎসকেরা। বুধবার (০৩ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) ৭৫ বছরের ইতিহাসে এটিই হতে চলেছে চিকিৎসকদের দীর্ঘতম ধর্মঘট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়বেন রোগীরা, বিঘ্নিত হবে স্বাস্থ্যসেবা।
গত এক বছরে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের মতোই ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) প্রতিনিধিত্বকারী জুনিয়র চিকিৎসকেরা ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির মুখে আরও ভালো বেতন চেয়ে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে বিএমএ ধর্মঘটের অবসান ঘটাতে সরকারকে একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য’ বেতন প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালিত এনএইচএস ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কারণে গত বছর ১২ লাখ অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল হয়েছিল। এরপর ৮ থেকে ১০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবের পর সরকারের সঙ্গে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে বিএমএ এবং গত ২০ থেকে ২৩ ডিসেম্বর ধর্মঘট করে। ইউনিয়নের দাবি, চলমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে ৩৫ শতাংশ বেতন বাড়াতে হবে জুনিয়র চিকিৎসকদের।
সম্প্রতি দেশটির সরকার নার্স, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকসহ অন্য স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের জন্য নতুন বেতন চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এখন জুনিয়র চিকিৎসকেরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘট ডেকেছেন। এই ধর্মঘট স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর চাপ বাড়াবে। কারণ বর্তমানে ৭৭ লাখের বেশি রোগী চিকিৎসা ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন।
এনএইচএস ন্যাশনাল মেডিকেল ডিরেক্টর স্টিফেন পোয়িস বলেছেন, চলতি জানুয়ারিতে এনএইচএস বছরের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের এক মুখপাত্র বলেন, আমরা একটি ন্যায্য সমাধানে আসতে চাই। আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা পেরেছি। আমরা এ নিয়ে আরও আলোচনা করতে চাই। তবে প্রথম কাজ হলো ধর্মঘট বন্ধ করা।
