ঝুঁকিপূর্ণ ১০ হাজার ৩০০ কেন্দ্রে ড্রোন দিয়ে নজরদারি

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:৫১ এএম

৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ উপলক্ষে দেশ জুড়ে কড়া নিরাপত্তা থাকবে। ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ঢাকাসহ সারা দেশে ১০ হাজার ৩০০টি কেন্দ্র বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সেসব কেন্দ্রে উন্নত ক্যামেরাযুক্ত ড্রোন দিয়ে নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

কেন্দ্রগুলো নিয়ে পুলিশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। নির্বাচনের দিন বড় ধরনের ঝামেলা হলে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে সে কৌশলও ঠিক করা হয়েছে। বেশি গণ্ডগোল হলে পুলিশকে শব্দবোমা (সাউন্ড গ্রেনেড) ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে গুলি চালাতেও বলা হয়েছে তাদের।

দেশে ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ১৪৯টি। আর ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৫টি। প্রতিটি কেন্দ্রে ২০ জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। তাদের সহায়তা করবে আনসার ও গ্রাম পুলিশ।

চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। নির্বাচনের পরও এ অভিযান চলবে। নির্দেশের পরও যারা বৈধ অস্ত্র থানায় জমা দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। নির্বাচনের নিরাপত্তা বিষয়ে ৩ জানুয়ারি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পুলিশের সব ইউনিটের প্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপিদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। কোনো প্রার্থীর পক্ষে পুলিশের কোনো সদস্য কাজ করছে না। ভোটের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তাবলয় থাকবে। বেশি ঝুঁকির কেন্দ্রগুলো আলাদাভাবে মনিটরিং করা হবে। নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হলে এ প্রক্রিয়ায় জড়িতদের দমন করা হবে।’

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, সহিংসতার বিষয়ে সজাগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে মাঠে থাকবে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, এপিবিএন ও র‌্যাবের প্রায় সাড়ে সাত লাখ সদস্য। ভোটের আগে-পরে ১৩ দিন থাকবে সেনাবাহিনী। ভোটকেন্দ্র, প্রার্থী, ভোটার, প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার এবং সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা দিতে ‘নির্বাচনী নিরাপত্তা ছক’ তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একাদশ সংসদ নির্বাচনের চেয়ে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ফোর্স থাকছে এবার।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে বিজিবি-কোস্টগার্ড ১১ দিন, র‌্যাব-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ৮ দিন, সশস্ত্র বাহিনী ১০ দিন নিয়োজিত ছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা ছিল।

জানা গেছে, নির্বাচনের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে গোয়েন্দা-তথ্যের ভিত্তিতে প্রতি রাতেই আবাসিক হোটেল ও মেসে অভিযান চালানো হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না সন্দেহভাজনদের বাসাবাড়িও। তবে সাধারণ মানুষ যেন হেনস্তার স্বীকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। পুলিশের বলছে, গত কয়েক দিনের অভিযানে প্রায় দেড় হাজার তালিকাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কিছু অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও।

ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে কেউ ঝামেলা করলে তাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো কঠোরভাবে মনিটর করা হবে।’

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের বেশি ঝুঁকির কেন্দ্রগুলো ড্রোন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর জন্য ক্যামেরাযুক্ত ড্রোন থাকবে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে ওইসব ড্রোনের ক্যামেরা থেকে পাওয়া ছবি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রের আশপাশে থাকবে পুলিশ ও র‌্যাবের বাড়তি ফোর্স এবং সাদা পোশাকের সদস্য। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রিজার্ভ রাখা হচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য।’

তিনি বলেন, ‘ড্রোন জোগাড় হয়েছে। নিরাপত্তার ছক তৈরি করা হয়েছে। ভোটের আগের-পরের তিন দিন রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্র্ণ পয়েন্টে থাকবে চেকপোস্ট। রায়টকার, জলকামান, দাঙ্গা পুলিশ ও এপিসি কার প্রস্তুত রাখা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল প্রস্তুত রাখা হবে।’ 

ওই কর্মকর্তা বলেন, বিএনপি ও সমমনারা নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও গুপ্তহত্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণেই দেশ জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে র‌্যাব সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রস্তুত থাকবে হেলিকপ্টার ও স্পেশাল টিম; ডগ স্কোয়াডও থাকবে।’

পুলিশ সূত্র জানায়, ২৯ ডিসেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৮ হাজার ৫০০ আনসারকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে। ২০০ প্লাটুন আর্মড পুলিশও (এপিবিএন) মোতায়েন রাখা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার ৪৩টি ইউনিয়নে মোতায়েন করা হয়েছে কোস্টগার্ড। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে তারা। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত