‘এখনকার বেশিরভাগ সিনেমায় যৌনতা বা হিংস্রতায় ভরপুর থাকে’

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৮ পিএম

মমতা শঙ্কর। একাধারে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নৃত্যশিল্পী, নৃত্য পরিকল্পক ও অভিনেত্রী। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত এবং গৌতম ঘোষ পরিচালকদের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এখন খুব বেছে ছবি করেন মমতা। কিন্তু নিত্যনতুন চরিত্রের চ্যালেঞ্জ এখনও তাঁকে টানে। সদ্য মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ‘বিজয়ার পরে’ সিনেমা। এ সিনেমায় স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘স্বস্তিকা এখন নিজের মেয়ের মতো হয়ে গিয়েছে। ওর বাবা, মানে সন্তুদার (মুখোপাধ্যায়) সঙ্গে কত ছবি করেছিলাম। ওর সঙ্গেও তো কতগুলো ছবি হয়ে গেল! ‘জাতিস্মর’, ‘শাহজাহান রিজেন্সি’,‘শিবপুর’ আর এখন এটা। তাই স্বস্তিকাকে আমার নিজের ছানাপোনার মতো মনে হয়।’

অভিনয়ের মতো ছবি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বেশ খুঁতখুঁতে তিনি। পছন্দসই না সব ছবিতে রাজি হন না। সেটার কারণও পরিষ্কার করলেন তিনি। জানালেন, ‘আমি ছবি ভীষণ বাছাই করে করি। সব ছবিতে রাজি হই না। কিন্তু কখনও কখনও হয়তো বন্ধুত্বের খাতিরে বা খুব আবদার করে কেউ কেউ আমায় বলে, মমদি, একটু ছবিটা করে দাও। তখন না করত পারি না। এমন কিছু ছবি হয়ে গিয়েছে যেগুলোয় মন থেকে সায় ছিল না। কিন্তু না হলে আমি চিত্রনাট্য বা আমার চরিত্রটা অপছন্দ হলে একেবারেই করি না।

এখনকার বেশিরভাগ সিনেমায় যৌনতা বা হিংস্রতায় ভরপুর থাকে। যা পরিবারের সঙ্গে বসে দেখা যায় না। এর দায় পরিচালককেই নিতে হবে। বুদ্ধিমান পরিচালক সব কিছু না দেখিয়েও বিষয়টি বোঝাতে পারেন বলে মনে করেন মমতা শঙ্কর।

তার ভাষ্য, ‘প্রেমের গল্প আগেও হত। ছবিতে নিষ্ঠুরতা বা হিংস্রতাও ছিল। কিন্তু সব কিছু চোখে আঙুল দিয়ে সরাসরি দেখিয়ে দেওয়া হত না। পরিচালকের সেখানেই বাহাদুরি, যেখানে তিনি বুদ্ধিমানের মতো সব কিছু না দেখিয়েও বলে দিতে পারবেন। শুধু যৌনতা বা হিংস্রতা দেখিয়ে দর্শককে হলে টানার প্রয়োজন পড়বে না। ওটাই যেন তুরুপের তাস না হয়ে যায়। গল্পের যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু তো একটু অন্য ভাবেও দেখানো যেতে পারে। কারণ, ছবিগুলো এখন টেলিভিশনে দেখানো হয়। পরিবারের সকলে মিলে দেখছে। সেখানে একটু বুঝেশুনে ছবি করা উচিত। মানিক কাকা, মৃণালদারা কত ছবি করেছেন। তাবড় সব পরিচালক এত বছর ধরে কত ছবি করেছেন। কখনও তো সব সরাসরি বোঝাতে হয়নি! তাঁরা তো এত দিন বসে ঘাস কাটেন নি! তাঁরা অনেক কঠিন বিষয় বা জটিল সম্পর্কের ছবিও করেছেন। কিন্তু ছবিগুলো তো আজকের ছবির মতো ছিল না। আমি বলব, এখানেই পরিচালকের যোগ্যতা ধরা পড়ে। যত বুদ্ধিমান পরিচালক, তাঁরা সব কিছু না দেখিয়েও বোঝাতে পারেন। যারা বোকা, যাঁদের বুদ্ধি একটু কম, সেই পরিচালকদের সব কিছু দেখাতে হয়। আসলে তাঁদের নিজেদের উপর ভরসা নেই। ভাবেন, যৌনতা বা হিংস্রতা না থাকলে দর্শক আসবেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত