ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মাধ্যমিকে ভর্তিচ্ছুক পাঁচ হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা ছুটছেন এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে। অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও। ক্লাস শুরুর ২১ দিন অতিবাহিত হলেও এসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো দিক-নির্দেশনা নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। তবে শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার তালিকা দীর্ঘ থাকলেও গ্রামাঞ্চলে রয়েছে আসন ফাঁকা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুই হাজার ৭৯৮ জন ছাত্র ও তিন হাজার ৯২ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত ছিল। এ বছর কিন্ডারগার্টেন ও এবতেদায়ী মাদ্রাসা থেকে এক হাজার ৬২৯ জন ছাত্র ও এক হাজার ৬৫৭ জন ছাত্রী ছিল। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্র চার হাজার ৪২৭ জন ও ছাত্রী চার হাজার ৭৪৯ জন; মোট ৯ হাজার ১৭৬ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, স্কুল-মাদ্রাসার ৫৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭৫টি শাখায় ৫৫ জন করে চার হাজার ১২৫ জন শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এ বছর বিদ্যালয়গুলো থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বইয়ের চাহিদা ছিল পাঁচ হাজার ৯০০ জনের, যা ২০২৩ সালে ছিল ছয় হাজার ২০০ জন।
একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান জানান, প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। সে অনুযায়ী প্রত্যেক বছর বইয়ের চাহিদা দেওয়া হত। যেহেতু প্রতি শাখায় ৫৫ জনের বেশি ভর্তির সুযোগ নেই। সেজন্য বইয়ের চাহিদা কম দিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামূল হক সরকার বলেন, এ বিদ্যালয়ে ২০২৪ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করে ৩৪৯ জন ছাত্রী। লটারির মাধ্যমে তিনটি শাখায় ১৬৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। আসনের অনুমতি পেলে ভর্তির জন্য অপেক্ষায় রাখা হয়েছে আরও ১৬৫ জনকে। এ বিদ্যালয়ে ২০২৩ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল ২৭৩ জন।
ডৌহাখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরোত্তম রায় জানান, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করেছিল ১৯৬ জন। তাদের মধ্যে ১৬৫ জনকে লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হয়েছে। গতবছর ভর্তি হয়েছিল ২২৮ জন। এ বছরের অপেক্ষমান তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেছি।
নুরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুল হক জানান, এ বছর ভর্তির জন্য আবেদন করেছিল ৪৫৫ জন। তিনটি শাখায় ৫৫ জন করে ভর্তি হয়েছে। ভর্তির জন্য অপেক্ষমান তালিকায় আরও ১৬৫ জনকে রাখা হয়েছে। ক্লাস শুরু হলেও তাদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি।
ধুরুয়া নাজিম উদ্দিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব উদ্দিন জানান, একটি শাখায় ৫৫ জন ভর্তি হয়েছে। আরও ১০৩ জন অপেক্ষমান।
অপরদিকে মাদ্রাসারগুলোর মধ্যে ইসলামাবাদ ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রুকুন উদ্দিন জানান, ৫৫ জন ভর্তি হয়েছে, ভর্তিচ্ছুক তালিকায় রয়েছে ৩৫ জন। শাখা খোলার জন্য তিনি আবেদন করেছেন।
পাছার সামাদিয়া দাখিলা মাদ্রাসার সুপার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ৫৫ জনের আসনের মধ্যে ২০ জন ভর্তি হয়েছে। ৩৫ জনের আসন এখনও শূন্য।
হাসনপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, ৫৫ জনের মধ্যে ৪০ জন ভর্তি হয়েছে। ১০ জনের আসন শূন্য আছে।
নামাপাড়া কেরামতিয়া দাখিলা মাদ্রাসার সুপার ছৈয়দ শহিদউল্লাহ জানান, ৫৫ জনের মধ্যে ৩৫ জন ভর্তি হয়েছে। ২০ জনের আসন শূন্য।
শিবপুর এলইউ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মফিজ উদ্দিন জানান, মাদ্রাসার শাখা এখনো সুস্পষ্ট নয়। যতজন আছে, সবাইকে বই দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে চলছে আরও ছয়টি মাদ্রাসা।
জানা যায়, লটারির মাধ্যমে গ্রামের শিক্ষার্থীরাও শহরের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। গৌরীপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সূরযবালা, জাগরণী, শেখ লেবু স্মৃতিসহ স্বনামধন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মেধাবী তালিকার ১ থেকে ২০ জনের ক্রমিকে থাকা অর্ধেক শিক্ষার্থী কোথাও ভর্তি হতে পারেনি।
ইসলামাবাদ এলাকাবার মো. মাসুদ মিয়া জানান, তার ছেলে সন্তান পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শহরের সবগুলো স্কুলে আবেদন করেও ভাগ্যের লটারিতে সুযোগ পাওয়া যায়নি। কালিপুর দৈনিক বাজার এলাকার আরেফিন রহমান জানান, আমার সন্তান ক্লাসে প্রথম হয়ে লাভ কি! মেধা যাচাই লটারিতে মানা হয় না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাহিদুল করিম জানান, শিক্ষার্থীদের এ সমস্যার বিষয়ে আমরা অবহিত আছি। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন একত্রীকরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
দেশে কোনো গাধা নেই, ছাগল বাড়ছে!
শীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাসের সময় পরিবর্তন
কাল যশোরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ