কিরগিজস্তান-জিনজিয়াং সীমান্তে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। ভূমিকম্পের আঘাতে বেশকিছু বাড়িঘর ধসে পড়েছে এবং অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া নিউজ।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পুরোপুরি বিবরণ জানা যায়নি। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার গভীর রাত ২ টা ৯ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের উশি কাউন্টির পাহাড়ী সীমান্ত এলাকায় ভূপৃষ্ঠের ২২ কিলোমিটার (১৩ মাইল) গভীরতায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানায় চীনের ভূমিকম্প প্রশাসন।
এছাড়া জিনজিয়াং ভূমিকম্প সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রটি উশি থেকে প্রায় ৫০ কিমি (৩১ মাইল) দূরে অবস্থিত এবং কেন্দ্রের চারপাশে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে পাঁচটি গ্রাম অবস্থিত।
অন্যদিকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ৪০টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে বলে চায়না আর্থকোয়াক নেটওয়ার্ক সেন্টার জানিয়েছে।
এছাড়া গত গত ২৪ ঘন্টায়, জিনজিয়াং প্রদেশে কয়েকটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এরমধ্যে নিকটবর্তী কাজাখস্তানে আঘাত হানা সর্বশেষ ভূমিকম্পটি ৬ দশমিক ৭ মাত্রার বলে জানিয়েছে জরুরি মন্ত্রণালয়।
চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েইবো ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটি উরুমকি, কোরলা, কাশগড়, ইইনিং এবং আশপাশের এলাকায় তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।
সিনহুয়া নিউজ জানিয়েছে ভূমিকম্পের পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে জিনজিয়াং রেলওয়ে বিভাগ রেল পরিষেবা বন্ধ করে দেয় এবং ভূমিকম্পের আঘাতে ২৭টি ট্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চীনের ভূমিকম্প প্রশাসন বলেছে, ভূমিকম্প ত্রাণ সদর দপ্তর এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে একযোগে জরুরি পরিষেবাগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় উদ্ধার প্রচেষ্টাকে গাইড করার জন্য সেখানে একটি দলও তারা প্রেরণ করেছে।
চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বলেছে, বেশ কয়েকটি বিভাগ ত্রাণ প্রচেষ্টার সমন্বয় করছে। দুর্গতদের জন্য সুতির তাঁবু, কোট, কুইল্ট, গদি, ভাঁজ করা বিছানা এবং খাবার গরম করার চুলা সরবরাহ করেছে।
কাজাখস্তানের বৃহত্তম শহর আলমাটিতে ভূমিকম্পের পর ঠান্ডা আবহাওয়া সত্ত্বেও বাসিন্দারা তাদের বাড়ি ছেড়ে বাইরে জড়ো হন। এসময় তাদের কেউ কেউ কেবল পায়জামা এবং চপ্পল পরে ছিল। তবে সেখানে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
