বস্ত্র খাতে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৫০ এএম

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ধারা কম হলেও দেশে যতটুকু বিনিয়োগ আসছে, সবচেয়ে বেশি বস্ত্র খাতেই। কিন্তু নানা বৈশি^ক বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ পেয়েও গত অক্টোবর থেকে দেশের পোশাক খাতের রপ্তানি আয় নিম্নমুখী। তবে পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা প্রচলিত ধারার পোশাকে বিনিয়োগের চেয়ে ম্যান মেইড ফাইবারে বিনিয়োগ আনতে আগ্রহী। বিদেশিদেরও সেভাবেই আকৃষ্ট করা হচ্ছে।

ডলার আয় বাড়াতে দেশের বিদেশি মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় পোশাক খাতের রপ্তানি বাড়ানোতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ খাতেই বিদেশিদের বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নিট এফডিআই অস্বাভাবিক হারে কমেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই- সেপ্টেম্বর সময়ে নিট এফডিআই এসেছে ৬৭ কোটি ডলার। ২০২২ সালের একই সময়ে এসেছিল ১১০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ৩৯ দশমিক ০৮ শতাংশ।

বিদেশি বিনিয়োগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে বস্ত্র খাতে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বস্ত্র খাতে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ১৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে যুক্তরাজ্য। এই সময়ে দেশটির বিনিয়োগ ৪ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। এর পরের অবস্থান দক্ষিণ কোরিয়ার। দেশটির বিনিয়োগ ৪ কোটি ২৩ লাখ ডলার। এছাড়া শীর্ষ বিনিয়োগকারী দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও শ্রীলঙ্কা। এই খাতে দেশগুলোর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৬৬ কোটি ২২ লাখ ডলার।  বিদেশি বাণিজ্যে বরাবরের মতোই ঘাটতিতে থাকে বাংলাদেশ। এই ঘাটতি পূরণ হয় বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে। কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে নানা সংকট ও বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কমে গেছে বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণের ছাড়। এমন পরিস্থিতিতে গত দেড় বছর দেশের বিদেশি মুদ্রার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ দেখা গেলেও দেশের চলমান গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে তা অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। 

বিনিয়োগে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা খাত ব্যাংকিং। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই খাতে বিনিয়োগ এসেছে ১০ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। এ খাতটিতেও সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগকারী দেশ যুক্তরাজ্য। দেশটির বিনিয়োগের পরিমাণ ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এই খাতে শ্রীলঙ্কা বিনিয়োগ করেছে ১ কোটি ডলার আর যুক্তরাষ্ট্র এই খাতে ৯৪ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই খাতে বর্তমানে মোট বিনিয়োগ রয়েছে ৩৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশের গ্যাস ও জ্বালানি খাত। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এই খাতে বিনিয়োগ এসেছে ৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। এই বিনিয়োগের ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারই বিনিয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয়, জুলাই-সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের সিংহভাগই গ্যাস ও জ¦ালানি খাতে। এছাড়া এই খাতে বিনিয়োগ করেছে নেদারল্যান্ডস ও জাপান। এই খাতে মোট বিদেশি বিনিয়োগ ৩২ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের কিছু বেশি।

জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ আসার দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে টেলিযোগাযোগ। এই খাতে বিনিয়োগ এসেছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। এই খাতে আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে নরওয়ে। দেশটি বিনিয়োগ করেছে ৩ কোটি ৮১ লাখ ডলার। এছাড়া এই খাতে বিনিয়োগকারী দেশের মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও নেদারল্যান্ডস। বর্তমানে এই খাতে মোট বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলার।

এছাড়া জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বিদ্যুতে ৬ কোটি ৪২ লাখ ডলার, বাণিজ্যে ৩ কোটি ৯৬ লাখ, খাদ্যে ৩ কোটি ৭০ লাখ, রাসায়নিক ও ফার্মাসিটিক্যালসে ২ কোটি ৭২ লাখ ডলার, কৃষি ও মৎস্য খাতে ১ কোটি ২৪ লাখ, সারে ১ কোটি ১৪ লাখ, সিমেন্টে ৯২ লাখ ডলার বিনিয়োগ এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সময়ে দেশে নিট এফডিআই এসেছে ২১১ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। ২০২২ সালের একই সময়ে নিট এফডিআই এসেছিল ২৭৭ কোটি ৬১ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত বছরের প্রথম ৯ মাসে তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এফডিআই প্রবাহ কমেছে ২৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন খাতে সবচেয়ে বেশি নিট বিনিয়োগ করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগের পরিমাণ ৪২ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়া ২৯ কোটি ৫৩ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ কোটি ৯১ লাখ, সিঙ্গাপুরের ১৯ কোটি ২০ লাখ, নরওয়ের বিনিয়োগ ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে ১২ কোটি ডলার। আর বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চীনের বিনিয়োগ মাত্র ৯ কোটি ৩২ লাখ ডলার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত