শুরুর চাকচিক্য আর বর্তমান বাস্তবতা, দুইয়ে আছে অনেক পার্থক্য। অন্তত বিপিএলের শুরুর দুই মৌসুমের জৌলুশ আপনার স্মৃতির মণিকোঠায় হয়তো এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে। সেখান থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টুর্নামেন্ট এর নিম্নমুখী গ্রাফের বাস্তবতা এখন প্রকাশ্য। এবারের আসরে তো নতুন আরও এক সমস্যা দল মালিকদের সামনে। একই সঙ্গে কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের কারণে সূচিতে বেধেছে সংঘর্ষ, আর তাই দল গঠনে শুরু থেকেই গাণিতিক নানান হিসাব নিকাশ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন দলগুলোর নীতিনির্ধারকরা।
এখন পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে খুলনা টাইগার্স আর তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলা চট্টগ্রাম দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেও নেই স্বস্তিতে। লম্বা টুর্নামেন্টে সাফল্য ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। আর দলের বিদেশি ক্রিকেটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একটা পরিকল্পনায় স্থির থাকাও বড্ড কঠিন। আসরের বড় দলের তকমা লাগানো কুমিল্লা, রংপুর কিংবা বরিশাল এখনো প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ। তবে এখন পর্যন্ত প্রত্যশা আর প্রাপ্তির ফারাক থাকলেও খুব একটা অস্বস্তিতে নেই দলগুলোর মালিকরা। সিলেটে এসে ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছলেন, বেশ কয়েকজন নামকরা ক্রিকেটারের সঙ্গে তারা আলাপ করছেন। তবে কোন সব ‘নামকরা ক্রিকেটার’ তা তিনি খোলাসা করেননি, বা করতে পারেননি। কারণ তিনি নিজেও নিশ্চিত নন, কাকে তিনি শেষ পর্যন্ত পাচ্ছেন!
মিজানুর রহমানের মতো একই অবস্থা অন্য ফ্রাঞ্চাইজি মালিকদের। বেশিরভাগ মালিক তাকিয়ে আছে চলমান সুপার স্মাশ টি টোয়েন্টির দিকে। ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে এই টুর্নামেন্ট। এরপর পাওয়া যাবে কিছু ক্রিকেটার। দলগুলোর নীতিনির্ধারকদের নজর সেদিকে। চলমান এসএ টি টোয়েন্টির দিকেও চোখ রাখছেন অনেকে। ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে সে টুর্নামেন্ট। নজর আছে আইএলটির দিকেও। ১৭ ফেব্রুয়ারির পর সে টুর্নামেন্টে খেলা বেশ কিছু ক্রিকেটারকে দেখা যেতে পারে এবারের বিপিএলে।
বিপিএলে বড় ধাক্কা দেবে পিএসএল। ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে সে টুর্নামেন্ট। স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা চলে যাবেন সেখানে। এরপর যে শূন্যতা তৈরি হবে, তা পূরণে হয়তো অনেকেই হিমশিম খেতে পারেন। বড় ঝড় বয়ে যাবে কুমিল্লা ও রংপুরের ওপর দিয়ে। বাবর ও রেজওয়ানের শূন্যতা পূরণে এখনই বিকল্প খুঁজে বেড়াচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি দুটি। কাকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া যাবে কিংবা কার কার সঙ্গে আর্থিক বনিবনায় মেলে! সেসব অনেক প্রশ্ন। এসব প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া কঠিন।
উত্তর দেওয়া কঠিন হলেও উত্তর খুঁজতে দোষ কোথায়! সেখানেও বিপত্তি। জানা গেছে অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি বড় সব নাম নিজেদের ডেরায় যুক্ত করতে চাইলেও বিপত্তি বাধে বাজেটে। সেখানে আটকে আছে অনেক সিদ্ধান্ত।
বরিশালকে কিছুটা সৌভাগ্যবান বলাই যায়। শেহজাদকে পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে তারা। এই পাকিস্তানিকে পেয়ে টপ অর্ডারে শক্তি বেড়েছে দলটার। পিএসএলে দল না পাওয়ায় শেহজাদকে প্রায় পুরোটা সময় পাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। কিন্তু এখনো পরের কোটা পূরণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আছে ধোঁয়াশা। বিপিএল শুরুর পর তামিম একথাই গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন ভিন্নভাবে। ‘কোন প্লেয়ার কখন আসবেন আর কখন যাবেন, তা জানা থাকলে পরিকল্পনা সহজ হয়।’ সবশেষ ম্যাচ শেষে তামিমের কথার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন মিরাজও।
জানা গেছে রঙ হারানো বিপিএলের মলিনতা অনেক বিদেশি ক্রিকেটারেরই জানা। তাইতো আর্থিক প্রস্তাব লোভনীয় হলেও অনেক ক্রিকেটারই থাকতে চাইছেন না। পিএসএলের আগে অনেকেই এই বিপিএলকে বেছে নিয়েছেন প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে।