আমার প্রথম দিকের বেশিরভাগ কাজই হয়েছে আহমেদ রুবেল ভাইয়ের সঙ্গে। ফলে আহমেদ রুবেল ভাইয়ের সঙ্গে আমার স্মৃতিগুলো বড় বেশি উজ্জ্বল। আর আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের সর্বশেষ যে দুটো নাটক করেছি, সে দুটোও রুবেল ভাইয়ের সঙ্গে। নাটক দুটোর নাম ‘নিশিকাব্য’ ও ‘স্বর্ণকলস’। একটু আগে যখন শুনলাম রুবেল ভাই নেই, ঠিক বিশ্বাসই হচ্ছিল না। এই একটু আগেও তার সঙ্গে আমার একটি পুরনো নাটক বের করে দেখছিলাম।
তিনি ব্যক্তি হিসেবে অসাধারণ মানুষ ছিলেন। আমার দেখা সেরা মানুষদের একজন। শুটিং সেটে রুবেল ভাই থাকা মানে পুরো সেট হাসি-আনন্দে মেতে থাকে। তিনি সবসময় হাসি-ঠাট্টা করতেন। কথার কথা না, তিনি সত্যিই অসাধারণ মানুষ ছিলেন।
আমরা নাটক বা চলচ্চিত্রের মানুষরা বলি আউটডোর শুটিংয়ের কথা। শ্যামল ছায়া ছবিটা তো একেবারে ভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র। এটা করতে দিনের পর দিন আমরা নৌকায় ছিলাম। সেই সময় রুবেল ভাইকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি শুধু ভালো অভিনেতা নন, মানুষ হিসেবেও বিরল।
হুমায়ূন আহমেদ আহমেদ রুবেলকে উৎসর্গ করেছিলেন যদিও সন্ধ্যা নামের একটি উপন্যাস। সেই উপন্যাসে বলেছিলেন আহমেদ রুবেল অভিনেতা হিসেবে এ প্লাস, মানুষ হিসেবে ডাবল প্লাস। হুমায়ূন আহমেদের কথার সঙ্গে আমি দ্বিধাহীনভাবে একমত। রুবেল ভাই সত্যিই মানুষ হিসেবে ছিলেন ডাবল এ প্লাস। আমরা রুবেল ভাইয়ের সঙ্গে খুব মজা করতাম। শুটিংয়ে লেট করলে তাকে যদি ফোন দেওয়া হতো বলতেন এই তো মহাখালী পার হচ্ছি। তাকে যতবার ফোন দেওয়া হবে ততবারই বলবেন, এই তো মহাখালী পার হচ্ছি।
রুবেল ভাইয়ের একটা খারাপ দিক ছিল। তিনি প্রচুর সিগারেট খেতেন। আমরা সব সময় রুবেল ভাইকে বলতামÑ ভাই, এইভাবে সিগারেট খেলে দেখবেন যে কোনো সময় ধপাস করে পড়ে যাবেন। উনি লিফটে পড়ে যাওয়ার খবর শুনে আমার সেই কথাটাই মনে হচ্ছে।
এক নজরে
জন্ম
১৯৬৮ সালের ৩ মে
কর্ম জীবন শুরু
সেলিম আল দীনের ঢাকা থিয়েটার প্রথম চলচ্চিত্র
আখেরী হামলা (১৯৯৩)
পুরস্কার
২০০৪ সালে চন্দ্র্রকথা চলচ্চিত্রের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার
আলোচিত চলচ্চিত্র
চিরঞ্জীব মুজিব, প্রিয় সত্যজিৎ, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া, ব্যাচেলর, গেরিলা, দ্য লাস্ট ঠাকুর, পেয়ারার সুবাস
