দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে শাসকদল আওয়ামী লীগ। অপরদিকে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এখনও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি।
জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এবার দলটি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি করবে না। তারা আনুপাতিক হারে যে ২টি আসন পেতে যাচ্ছে তা দলীয় চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা জি এম কাদের নির্ধারণ করবেন। একটি আসনে দলের কো চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম নিশ্চিত হলেও অপরটি কাকে দেওয়া হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা চলছে।
জাতীয় পার্টির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, একাদশ সংসদে সালমা ইসলাম ও শেরিফা কাদের সংরক্ষিত আসন থেকে এমপি ছিলেন। এবার তারা সরাসরি নির্বাচন করলেও হেরে যান। ফলে এই দুই প্রার্থীকে পুনরায় সংরক্ষিত আসন থেকে মনোনয়ন দিয়ে এমপি বানানোর বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত ছিল। কিন্তু দ্বাদশ নির্বাচনের পর থেকে শেরিফা কাদেরের আসন সমঝোতা ও দলের প্রেসিডিয়াম মেম্বার হওয়া নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে। সমালোচনার ভয়ে স্ত্রীকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জি এম কাদের।
শেরিফা কাদেরের জায়গায় এবার আলোচনায় রয়েছেন জাপার কো চেয়ারম্যান আবু হোসেন বাবলার স্ত্রী সালমা হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রেসিডিয়াম মেম্বার নাজমা আক্তার। এর বাইরে আলোচনায় আছেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হেনা খান পন্নি, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন্নাহার বেগম, ঝিনাইদহ থেকে নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির সদস্য মনিকা আলম, বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত মাহমুদুর রহমান মুন্নী, কো চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদারের স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনা।
দ্বাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ২৬ আসনে সমঝোতা করে নির্বাচনে যায় জাতীয় পার্টি। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার আসন নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় নির্বাচনে না যেতে জি এম কাদের দলীয় চাপে পড়েন। দিনভর নাটকীয়তা শেষে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ জাপাকে ছেড়ে দেওয়া আসনের তালিকা প্রকাশ করে। যেখানে ঢাকায় কেবল শেরিফা কাদেরের আসন ছিল।
এরপর থেকে রাজনীতির মাঠে আলোচনা শুরু হয় কেবল স্ত্রীর আসন পেয়েই নির্বাচনে যান জি এম কাদের। নির্বাচনের পর থেকে জাপায় এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এখন পর্যন্ত নেতাকর্মীদের কার্যালয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে না। এই সুবিধা নিয়ে ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন রওশন অনুসারীরা।
