চাঁদপুর আধুনিক নৌ-বন্দর নির্মাণ কাজ চলছে ধীরগতিতে। দুই বছর মেয়াদী এই প্রকল্প মেয়াদের আট মাসে কাজ হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ বলছেন, উচ্ছেদ শেষে কাজ শুরু করতে বেশ সময় লেগেছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর একনেকে ‘চাঁদপুর আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প’ অনুমোদন পায়। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৬৭ কোটি টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ কোটিতে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সাথে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম চাঁদপুর নৌ বন্দর। যোগাযোগ সুবিধার কারণে প্রতিনিয়ত এই বন্দর দিয়ে চাঁদপুর জেলাসহ নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার হাজারো যাত্রী যাতায়াত করেন।
অস্থায়ী ব্যবস্থায় চলে আসা এই বন্দরটি আধুনিকায়নে যাত্রীদের দাবি ছিল দীর্ঘ দিনের। অবশেষে কাজ শুরু হলেও ধীরগতিতে চলা নির্মাণ কাজে হতাশ যাত্রীরা। প্রতিনিয়তই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি যাত্রীদের।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ঢাকাগামী যাত্রী জাকির হোসেন বলেন, আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবি আধুনিক নৌ টার্মিনালের কাজ শুরু হয়েছে। তবে কাজের যেই গতি তাতে মনে হয় না কোনো অবস্থাতেই আগামী বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবে। বর্তমানে লঞ্চে যাতায়াত করতে অনেক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। পন্টুনে দাঁড়ানো জায়গা নাই, টয়লেটের ব্যবস্থা নাই। আমরা চাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হোক।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, নৌ টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে ১৫০০ স্কয়ার মিটার এলাকায় চারতলা বিশিষ্ট ৩টি ভবন নির্মাণসহ ঘাটে স্থাপন করা হবে নতুন পন্টুন, পন্টুনে যাওয়া আসার গ্যাংওয়ে, পার্কিং ইয়ার্ড, প্রসস্থকরণ করা হবে লঞ্চঘাটের সামনের রাস্তা ও এক্সটার্নাল ব্রিজ। ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ৩১০টি পাইলিং এর মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদের প্রায় ৮মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে ৩৭টি পাইলিং এর কাজ। অথচ ২০২৩ সালে শুরু হওয়া দুই বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালে মে মাসে। এর নির্মাণ কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন।
তমা কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ইনচার্জ শাকিল আহমেদ বলেন, চাঁদপুর লঞ্চঘাটটি চলমান হওয়ায় এখানকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করতে সময় লেগেছে। তাই কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তাছাড়া পাইলিং কাজ করতে গিয়েও আমাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রায় সময়ই ৪০ ফিট, ৫০ ফিট মাটির নিচে পাথর পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। তার পরেও আমরা নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।
এই প্রকল্পের দাতা সংস্থা ওয়াল্ড ব্যাংকের পরামর্শক ইঞ্জিনিয়ার মো. ইমরান বলেন, লঞ্চ ঘাটের যাত্রীদের দুর্ভোগ লাগবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কাজের মান ঠিক রাখতে প্রতিনিয়িত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কাজের প্রায় ১০ ভাগ করা হয়েছে। আশা করি সামনে কাজের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে, যাতে করে সঠিক সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়।
চাঁদপুর জেলা বন্দর কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় লঞ্চে চলাচলকারী যাত্রীদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া সামনে ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রী সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকার্তাদের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
ধীরগতির কাজের ব্যাপারে তিনি বলেন, তাদের কাজ দেখে মনে হচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের জনবল সংকট রয়েছে। তবে, যেহেতু আমারা এই প্রকল্পের সাথে জড়িত নই তাই এ ব্যাপারে সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ে যেন কাজ শেষ করা হয় সে ব্যাপারে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।
বর্তমানে চাঁদপুর লঞ্চ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক লঞ্চ চলাচল করে থাকে ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নৌ-রুটে। এই ঘাটে প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করলেও ঈদের উৎসবকে কেন্দ্র করে তা বেড়ে দাঁড়ায় লক্ষাধিক।
