বিদ্যুতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, সরকারের আয় হবে ৫৭০ কোটি

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:১২ পিএম

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ইউনিট প্রতি ৭৫ পয়সা বৃদ্ধির ফলে চলতি অর্থবছরে সরকারের বাড়তি আয় হবে ৫৭০ কোটি টাকা। এর ফলে গ্যাস খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমান কমে ছয় হাজার কোটি টাকার মধ্যে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা ৭৫ পয়সা এবং কলকারখানায় ব্যবহৃত ক্যাপটিভ বিদ্যুতের (কারখানার নিজস্ব উদ্যোগে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্র) গ্যাসের দাম ৩০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩০ টাকা ৭৫ পয়সা করা হয়েছে। চলতি মাস থেকেই নতুন মূল্য কার্যকর হবে।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে দুই একদিনের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আদেশ আসতে পারে বলে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে।

এবার বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৩৪ পয়সা থেকে ৭০ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে। অর্থাৎ বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বেশি দাম দিতে হবে। পহেলা মার্চ থেকেই বিদ্যুতের নতুন দর কার্যকর হবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ক্যাপটিভে মোট গ্যাসের ৫৭ শতাংশ ব্যবহার হয়। তবে বাসাবাড়ি, পরিবহন ও অন্যান্য খাতে ব্যবহ্নত গ্যাসের দাম বাড়েনি।

গ্যাসের  দর পুননির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন, আমদানি, সরবরাহ মূল্যের সাথে বিক্রয়মূল্যের পার্থক্যের কারণে সরকারকে এ খাতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আর্থিক ক্ষতি/ভর্তুকি দিতে হবে প্রায় ৬ হাজার ৫৭০.৫৪ কোটি টাকা। কৃষি সেচ মৌসুম, রমজান মাস ও গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের চাহিদা আরো বেশি থাকে। শিল্প, গৃহস্থালি, সার উৎপাদন, সিএনজি, বাণিজ্যিক ও চা শিল্পে মূল্য সমন্বয় অপরিবর্তিত রয়েছে। এই মূল্য সমন্বয়ের ফলে এলএনজি’র (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বর্তমান বাজার মূল্য ও ডলার বিনিময় হার বিবেচনায় বিদ্যমান ভর্তুকি ৬০০০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হতে পারে।

বর্তমানে দেশে ৮ শ্রেণির গ্যাস ব্যবহারকারী রয়েছে। এরমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৩৭ শতাংশ, শিল্পে ২৩ শতাংশ, ক্যাপটিভ বিদ্যুতে ১৮ শতাংশ, বাসাবাড়িতে ১০ শতাংশ, সার উৎপাদনে ৭ শতাংশ, সিএনজিতে ৪ শতাংশ এবং বাণিজ্যিক ও চা শিল্পে ১ শতাংশ গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

সর্বশেষ গত বছরের জানুয়ারিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৫ টাকা ৮ পয়সা থেকে বাড়িতে ১৪ টাকা এবং ক্যাপটিভ ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছিল। তখন শিল্প, বিদ্যুৎ ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। তবে পরিবহন খাতে ব্যবহৃত সিএনজি ও আবাসিকের গ্যাসের দাম বাড়ায়নি সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত