বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডায়াবেটিস রোগী আছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, পৃথিবীব্যাপী ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রতি বছর ৭ মিলিয়ন করে নতুন রোগী তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশেও ডায়াবেটিস আক্রান্তের হার দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশে ২ কোটি ২০ লাখ হতে পারে ডায়াবেটিস রোগী।
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে বিশ্ব ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৫০ শতাংশ মানুষ জানেই না তাদের ডায়াবেটিস হয়েছে। ইদানীং গ্রামের মানুষদেরও ডায়াবেটিস হচ্ছে, যা আমাদের ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মুহূর্তে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি করা। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে, শারীরিক পরিশ্রম বাড়াতে হবে, স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনের অভ্যাস করতে হবে।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক মো. সাইফুদ্দিন, ডা. অরুপ রতনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান।
ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিবারের মতো এবারও ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে নির্বাচিত আদর্শ ডায়াবেটিক রোগীদের প্রাইজবন্ড ছাড়াও অভিনন্দনপত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিলো- ‘ডায়াবেটিস প্রতিরোধের এখনই সময়’।
রোগীর জন্য ভালো সেবা চাই: রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনের এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, চিকিৎসকদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব আমার, কিন্তু রোগীর ভালো সেবা দেবার দায়িত্ব নিতে হবে। আমার যেমন চিকিৎসকদের প্রতি দায়িত্ব আছে, তেমনি রোগীদের প্রতিও সমান দায়িত্ব আছে। এই দুই দায়িত্বই আমি নিচ্ছি তবে, হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা থেকে কোন রোগী যেন বঞ্চিত না হয় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. শহিদ মিলন অডিটোরিয়াম হলে নর্থ আমেরিকা মেডিকেল এসোসিয়েশন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ এর যৌথ আয়োজনে ‘ডোনেশন অব মডার্ণ হেলথ কেয়ার ইকুইপমেন্ট এন্ড হ্যান্ডস অন ট্রেইনিং’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসময় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের বেড সংখ্যা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাত দিয়ে ৫ বেডের বার্ন ইউনিট শুরু করেছিলাম, তার মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত দিয়ে ৫০০ বেডে উন্নীত করেছি। চেষ্টা থাকলে সবই করা সম্ভব। এভাবে সবার সহোযোগিতা পেলে আমরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান অবশ্যই উন্নত করতে পারবো।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা যে পরিমাণ পরিশ্রম করেন তাদেরকে আমি মনে করি নোবেল দেওয়া উচিত। হাজার হাজার রোগীকে দিনরাত অক্লান্ত সেবা দিয়ে এই চিকিৎসকরা সুস্থ করে তোলেন। চিকিৎসকদেরকে এই কৃতিত্ব অবশ্যই দিতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নর্থ আমেরিকা মেডিকেল এসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ব্যক্তি পর্যায়ে চিকিৎসা সামগ্রী দেওয়া হয়।