২ বছর আগের টাকা এখনো পাননি আনসাররা

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৪, ০৩:০০ এএম

কুষ্টিয়ায় ইউপি নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে সহযোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালন করা আনসার সদস্যরা দুই বছরেও কাজের মজুরি না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে চরম অসন্তোষ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আনসার সদস্যরা। তাদের দাবি, ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ০৩ নভেম্বর পর্যন্ত ০৪ দিন জেলার ৩৮টি ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত পিসি এপিসি নারী-পুরুষসহ সর্বমোট ৬৪৬ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। বিধি মোতাবেক এসব আনসার সদস্যদের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদেয় ভাতাদিসহ মোট বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৯০ টাকা। কিন্তু ইতিমধ্যে দুটি অর্থবছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত কাজের প্রাপ্য মজুরি পাননি তারা। এ বিষয়ে আনসার ও ভিডিপির কুষ্টিয়া জেলা কমান্ড্যান্ট বলছেন, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রেরিত বরাদ্দপত্র সংশ্লিষ্ট অর্থবছর অতিক্রান্ত হওয়ায় এবং বিলম্বে বরাদ্দপত্র জেলা হিসাবরক্ষকের দপ্তরে আসায় সেই টাকা আর উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। তবে ওই টাকা নতুন করে বরাদ্দ চেয়ে একাধিকবার পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

সদর উপজেলার আইলচারা গ্রামের বাসিন্দা আনসার সদস্য (পিসি) বশিউর রহমানের অভিযোগ, ‘কিছুই বলার নেই, দুই বছর আগে কাজ করেছি অথচ তার কোনো ভাতাদি আজও পাইনি। দলনেতা হিসেবে আমি আমার দলের যে ১৭ জনকে নিয়োগ দিয়েছিলাম, তারা এখন আমাকে অবিশ্বাস করে। তাদের অভিযোগ আমি নাকি ওদের টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেছি। এই ঘটনায় আমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে গেছে। তাছাড়া আমাদের অফিস থেকেও সঠিক করে কিছু বলতে পারছে না যে কবে আমরা এই পাওনা টাকা পাব।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আনছার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রতিবার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর পূর্বেই চাহিদাপত্র অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে কর্মতৎপরতা শুরু করে। সে কারণে দুই বছর আগে ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী ডিউটি পালন করে টাকা পাবে না তা তো হওয়ার কথা নয়। আনসার সদস্যরা তাদের পাওনাদি পরিশোধের অনুরোধ করে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনে পত্র প্রেরণ করুক।’

আনসার ও ভিডিপি কুষ্টিয়া জেলা কমান্ড্যান্ট মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘দুই বছর আগে ইউপি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শেষে আনসার সদস্যরা মজুরি ভাতাদি এখনো পায়নি। এ বিষয়ে আমি নিজেও বিচলিত। ওরা তো সবাই গরিব মানুষ, অভাবী মানুষ, সামান্য এই কয় টাকা পেয়ে হয়তো সংসারে কোনো কাজে লাগবে। সে জন্য প্রায়ই ওরা অফিসে এসে জানতে চায়। তাদের জানানো হয়েছে, টাকা বরাদ্দ চেয়ে পত্র প্রেরণ করেছি, আশা করি খুব শিগগিরই এটি নিরসন হবে। এছাড়া কিছু অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী আনসার সদস্যদের প্রাপ্য টাকায় ভাগ বসায় এমন অভিযোগ নিরসনের জন্য আমরা ইতিমধ্যে অনলাইন ডাটাবেজ অ্যাকাউন্ট করে দিয়েছি। এখন থেকে আর আনসার সদস্যদের টাকায় কেউ ভাগ বসাতে পারবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত