‘আগামীকাল জ্বালানি তেলের মূল্যে বিরাট পরিবর্তন আসতে পারে’

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪, ০৮:২৫ পিএম

পরিকল্পিত, সরকার অনুমোদিত শিল্প এলাকা এবং ভবন ছাড়া কোথাও গ্যাস, বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন  বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার অনুমতি ছাড়া নির্মিত যেসব ভবনে প্লান না দেখেই ইতোমধ্যে আপনারা কানেকশন ( সংযোগ) দিয়েছেন সেগুলো বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এগুলো অবৈধ, এসব সংযোগ থাকতে পারবে না।

বুধবার (৬ মার্চ) চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রিপেইড মিটার উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নসরুল হামিদ বলেন, 'আপনারা দেখেছেন ঢাকার বেইলি রোডের ঘটনা। কি মর্মান্তিক! সেই ঘটনা যেন চট্টগ্রামে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। সুতরাং কর্ণফুলীতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বলবো, আপনারা সমস্ত বিল্ডিংয়ে এখন নিয়মিত  যাতায়াত করবেন। বিল্ডিং করতে তাদের অথরিটির অনুমোদন আছে কিনা, ডিজাইনটা আছে কিনা, সেটা দেখতে হবে। ডিজাইনে রেস্টুরেন্ট করার অনুমোদন থাকলে ভালো। আর না থাকলে লাইন কেটে দেবেন। এখন মনে করেন বাড়ি বানিয়েছে আবাসিক কিন্তু সেখানে হোটেল কিংবা কারখানা করছে তাহলে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবেন। 'আমি এগুলো অডিট করার জন্য এক মাস পরে লোক পাঠাবো। যদি দেখি আপনারা গাফিলতি করেছেন, তাহলে আপনাদের ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নেব' যোগ করেন নসরুল হামিদ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ধীরে ধীরে এখন যে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করছি, তার সাথে সাখে স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার লাগানো একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো- কর্ণফুলীর আওতায় গ্যাসের সমস্ত গ্রাহকদেরকে আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রি-পেইড এবং স্মার্ট মিটারের আওতায় নিয়ে আসা।

সরকার নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস দিতে চাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাসের জন্য নিয়মিত বিল দেয়াটাও একটা বড় বিষয়। সারাদেশে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়ে গেছে। এই টাকাটা আমরা কমাতে চেষ্টা করছি।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রধান স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা বলেন ।

পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে  নসরুল হামিদ বলেন ,জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন এখন সময়ের দাবি। স্মার্ট বাংলাদেশের ভিত্তি হবে স্মার্ট জনগণ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই আধুনিক ধ্যান ধারণা সম্পন্ন হতে হবে। নিজেদেরকে স্মার্ট হতে হবে। ১৫৪ বছরের ঐতিহ্যে পদ্মা অয়েল কোম্পানিটি আধুনিক হবে তখনই যখন এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আধুনিক হবে- স্মার্ট হবে।

পরিদর্শন কালে বিপিসি চেয়ারম্যান এবিএম আজাদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্টানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং কর্মকর্তা, কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে নসরুল হামিদ বলেন, মহেশখালি থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানিকৃত জ্বালানি তেল চলে আসবে পতেঙ্গা ডিপোতে। এই তেলের ডিসপাস সেন্টার এর কাজ ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। এখান থেকে এই তেল চলে যাবে ঢাকায়। পাইপলাইন করে ফেলেছি। ঢাকায় গিয়ে গোদনাইল ডিপো থেকে তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। সারাদেশ ব্যাপী যাতে নিরবিচ্ছিন্ন তেল পরিবহন করা যায় তার ব্যবস্থা আমরা করছি। তেলের টারমিনালগুলো অটোমেটেড হয়ে যাবে। এজন্য কনসালটেন্ট কাজ করছে। এই বছরের মধ্যে কনসালটেন্টের কাছ থেকে ডিজাইন পেলে সামনে বছর থেকে আমাদের কাজ শুরু হয়ে যাবে। দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি তেল চুরি ও অপচয় হচ্ছে নানাভাবে। সেজন্যই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিশেষ করে তেলের দাম এবং এর পরিচালনা সবই আমরা পেপারলেস, হিউম্যানলেস হবে। ম্যানুয়ালি কোনো কিছু হবে না। আমরা আশা করছি আগামী তিন বছরের মধ্যে এই কাজগুলো শেষ হবে। তেলের জাহাজ পৌঁছানোর পর অটোমেটেড তেল আনলোডিং হবে। এবং তা পরিমাপ হবে স্বয়ক্রিয়ভাবে। মেজারটমেন্ট শেষে পাইপলাইনের মাধ্যমে আমাদের ট্যাংকে চলে যাবে। ট্যাংক থেকে সরাসরি চলে যাবে ঢাকার গোদনাইলে। গাড়ির মাধ্যমে যেসব তেল বিক্রি করা হবে সে ব্যাপারেও আমরা পরিবতর্নের কথা চিন্তা করছি। এই গাড়িগুলোর যথাযথ নিরাপত্তার নিশ্চিত করার জন্যও আমরা কাজ করছি। এখন থেকে পাইপলাইনে যে তেল ঢুকবে তার ওজন, চাপ সবকিছুই হবে অটোমেটেট। সবার কাছে ড্যাশবোর্ড থাকবে ঢাকা থেকে বসে সবকিছু দেখা যাবে। এটা তো গেল টারমিনাল অটোমেশন। সারা বাংলাদেশে যত ডিপো আছে সব অটোমেটেড হবে। প্রায় ৩৯ টি ডিপেো। তেলের রিজার্ভ রাখার জন্য আমরা একটা বড় পরিকল্পনা নিয়েছি। খুলনায় আমাদের ডিপো শেষ হয়ে গেছে। গোদনাইল, ফতুল্লাতে হচ্ছে এবং মহেশখালিতে আমাদের প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

ইতোমধ্যে এসপিএম পরীক্ষামূলকভাবে জ্বালানি তেল  সরবরাহ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর নাগাদ এসপিএম বাণিজ্যিক অপারেশনে যাবে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার মতো আমাদের সাশ্রয় হবে। তবে আমি আশা করি আরও বেশি হবে। এই তেল পরিবহনে যে পিলফারেজ ( চুরি) হয় তাতেই এই টাকা সাশ্রয় হবে। এই যে বিভিন্নভাবে তেলের যে লস ছিল সেগুলো আমরা কমিয়ে আনবো।

'অটোমেশনের কাজ এ বছরে ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তারপর আরও তিনবছর লাগবে এটা পুরোপুরি শেষ করতে। আমরা সাশ্রয়ী মূল্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, জ্বালানি দিতে চাই' বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য ঘোষণার আভাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার জ্বালানি তেলের মূল্যের বিরাট একটা পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এই যে আমরা অটোমেটেড শুরু করেছি। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তায়। এই যে ইন্সটলেশন করছি এতে কিন্তু বড় সাশ্রয় হবে। আবার আমরা কস্টিং করবো কী পরিমাণ সাশ্রয় হলো। বিশ্ব বাজারে যদি তেলের দামের তারতম্য না হয় তাহলে আশা করছি আগামীতে আমরা তেলের ভালো প্রাইসিং দিতে পারবো। 

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। আমরা আরও আড়াই লাখ মেট্রিকটন তেলের মজুদ ক্ষমতা বাড়াতে চাচ্ছি। ভারতের নুপালিগড় থেকে খুব সস্তায় তেল আনছি। পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আনায় সেখানে খরচ কমেছে। ডিজেলের গুনগত মানও এখন অনেক উন্নত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত