১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গোধূলি বেলায় প্রথমবার ৫ উইকেট পেয়েছেন মোহাম্মদ নবি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডেতে মঙ্গলবার এই প্রাপ্তি ধরা দেয় নবির। ১০ ওভার বোলিং করে স্রেফ ১৭ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি।
এর আগে ব্যাট হাতেও ৪৮ রানের ইনিংস আসে তার ব্যাট থেকে। এমন চৌকষ্য নৈপূণ্যে অবধারিতভাবেই ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। ১১৭ রানের জয়ে সিরিজ জিতে নেয় আফগানরা।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অধিনায়ক হাশমাতউল্লাহ শাহিদির ৬৯ ও রাহমানউল্লাহ গুরবাজের ৫১ রানের ইনিংসের সঙ্গে নাবির অবদান মিলিয়ে আফগানিস্তান তোলে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৩৬ রানে। এরপর নাবি ও নানগেয়ালিয়া খারোটে মিলে আইরিশ ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দেন ১১৯ রানেই।
উইকেটে স্পিন ধরেছে অনেক। টার্ন ছিল, বল স্কিডও করেছে। সেখানেই বিধ্বংসী হয়ে ওঠে নাবি। ৩৯ বছর ৭১ দিন বয়সে প্রথমবার ৫ উইকেটের স্বাদ পান তিনি।
ওয়ানডে ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি বয়সে ৫ উইকেট নিতে পেরেছেন আর দুজন। সবচেয়ে বেশি বয়সে ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড সুনিল ধানিরামের। ২০০৮ সালে বারমুডার বিপক্ষে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেওয়ার দিনে কানাডার এই বাঁহাতি স্পিনারের বয়স ছিল ৩৯ বছর ২৫৬ বছর।
২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৪ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ইমরান তাহির। দক্ষিণ আফ্রিকান লেগ স্পিনারের বয়স ছিল ৩৯ বছর ১৯০ দিন।
ম্যাচের পর প্রথম প্রাপ্তির উচ্ছ্বাস ছিল নাবির কণ্ঠে। “এই কন্ডিশনে পারফর্ম করতে পেরে খুবই খুশি আমি। দলের আজ প্রয়োজন ছিল। অনেক অপেক্ষার পর অবশেষে ৫ উইকেট পেলাম। ১৭ বা ১৮ বছর হয়ে গেছে মনে হয় (১৫ বছর)…। চেষ্টা করেছি উইকেট সোজা বল করতে এবং ব্যাটসম্যানদের কাজ কঠিন করে তুলতে।”
১৬১ ওয়ানডেতে নবির শিকার দাড়িয়েছে ১৬৯টি।
নাবি যদি ম্যাচের নায়ক হন, পার্শ্বনায়ক অবশ্যই খারোটে। ১৯ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার অভিষেকেই নিয়েছেন ৩০ রানে ৪ উইকেট। আফগানিস্তানের হয়ে ওয়ানডে অভিষেকে তার চেয়ে ভালো বোলিং আছে আর দুজনের। ২০০৯ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি পেসার শাপুর জাদরান। ২০১৭ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঠিক ২৪ রানেই ৪ উইকেট নেন স্পিনার মুজিব-উর-রাহমান।
দুই ম্যাচে ১২১ ও ৫১ রানের দুটি ইনিংস খেলে সিরিজ সেরা হওয়া রাহমানউল্লাহ গুরবাজ আলাদা করে বললেন অভিষিক্ত তরুণ স্পিনারের কথা। 'সিরিজ সেরার পুরস্কারটি উৎসর্গ করতে চাই নানগেয়ালিয়াকে। তার ভবিষ্যতের জন্য সবটুকু শুভ কামনা।'
