ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা উত্তরে

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪, ০৯:৪৩ পিএম

পুরোদমে চলছে হাটিকুমরুল-এলেঙ্গা-রংপুর চার লেন প্রকল্পের কাজ। তবে উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় সড়কটি কখনও সংকুচিত, কোথাও প্রশস্থ আবার কোথাও একমুখি। এতে করে মাঝে মধ্যেই যান চলাচলে ধীরগতির কারণে যানজটসহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। তবে নির্মাণ কাজের গতি বাড়িয়ে ভোগান্তিমুক্ত ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার দাবি সাধারণ মানুষসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের।

জানা গেছে, সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) প্রকল্প-২ এর আওতায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া হয়ে রংপুর পর্যন্ত ১৯০.৪ কিলোমিটার মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ২০১৬ সালে অনুমোদন হলেও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঠিকাদার কাজ শুরু করেন ২০১৯ সালের মার্চে। করোনাকাল, ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধিসহ নানা জটিলতায় নির্মাণ কাজে ধীরগতি নেমে আসে। এসব জটিলতা কাটিয়ে আবারো কাজ পুরোদমে চলমান হয়েছে। এরই মধ্যে বেড়েছে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয়। ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকার সাথে আরও চার হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপ প্রকল্প পরিচালক জয় প্রকাশ চৌধুরী মুঠোফোনে জানান, এই প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন। বিভিন্নস্থানে যান চলাচলে ২০টি আন্ডারপাস খুলে দেওয়ায় এই পথে চলাচলকারী মানুষরা সুফল পেতে শুরু করেছে। ফোর লেন প্রকল্পে বগুড়া অংশে কাজের অগ্রগতি আগের চেয়ে বেড়েছে, গোটা প্রকল্পের অগ্রগতি ৭৩ ভাগ।

সড়ক উন্নয়নসহ প্রকল্পের আওতায় রাস্তার উভয় পাশে স্লো মুভিং ভেহিক্যাল ট্রাফিক লেন, ছয়টি ফ্লাইওভার নির্মাণ, ৩৫টি সেতু, রেলওভার পাস ২টি, ৩৯টি আন্ডারপাস, ১৮০টি কালভার্ট এবং পথচারী পারাপারের জন্য ১১টি পথচারী সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। ৭০ কিলোমিটার কংক্রিট পেভমেন্ট আরসিসি এবং ১২০ কিলোমিটার বিটুমিন কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া অংশে ৬৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। চার লেনের পাশাপাশি মহাসড়কের দুই পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য দুটি সংরক্ষিত লেনও থাকবে। প্রকল্পের বগুড়া অংশে রাস্তার উন্নয়নসহ ২টি সেতু, ১১টি আন্ডারপাস, ১টি রেলওয়ে ওভারপাস, কালভার্ট এবং বিভিন্নস্থানে যাত্রী ওঠা-নামার জন্য বাস-বে নির্মাণ করা হচ্ছে।

এদিকে সরেজমিন দেখা গেছে, নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় মহাসড়কে যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলছে। বগুড়ার মাটিডালী বিমান মোড়, তিনমাথা এলাকা, মেডিকেল কলেজ, ফুলতলা এলাকা উল্লেখ্যযোগ্য। এর মধ্যে পবিত্র ঈদ এসে পড়েছে। ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়ে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাবে। তাই ভোগান্তিমুক্ত চলাচলে নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের।

সাসেক-২ প্রকল্পর বগুড়ার বনানী-মোকামতলা অংশের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, শিগগিরই বগুড়ার ফুলতলা এলাকায় আন্ডারপাস ও তিনমাথা রেলওয়ে ওভারপাস যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এতে করে যান চলাচল সহজ হবে। তাই ঈদযাত্রায় ভোগান্তির কোনো শঙ্কা নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত