মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইতিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ০৬:৫০ পিএম

ইতিকাফ আরবি শব্দ। যার অর্থ অবস্থান করা, নিঃসঙ্গতা, বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদি। পরিভাষায় নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিভিন্ন ধরণের ইবাদত-বন্দেগি যেমন: নামাজ, রোজা, জিকির, ইসতিগফার দোয়া, কোরআন তেলাওয়াত ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার উদ্দেশে জামে মসজিদে অবস্থান করা।

ইতিকাফ পূর্ণ রমজান মাস জুড়েও হতে পারে। যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আবার রমজান ছাড়াও অন্য যেকোনো সময় সর্বনিম্ন দশ-পনের মিনিটের জন্যও নফল ইতিকাফ হতে পারে। আর এই রমজান মাসের মধ্যেই রয়েছে মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর। যে রাতের ইবাদতের বিনিময়ে বান্দার জন্য রয়েছে হাজার বছর ইবাদত অপেক্ষা উত্তম প্রতিদান।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ -(সহিহ বুখারি : ২০২৫) এজন্য আমাদেরও উচিত হলো, রমজানের শেষ দশকে জামে মসজিদে ইতিকাফ করা।

হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের মধ্য দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ইতিকাফ করেন, যখন একুশতম রাত এলো, যে রাত শেষে সকালে তিনি তার ইতিকাফ থেকে বের হবেন, তখন তিনি বললেন, যারা আমার সঙ্গে ইতিকাফ করেছো তারা যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কদর (কদরের রাতটি) দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে সেটার সঠিক তারিখ ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে, ঐ রাতের সকালে আমি কাদা-পানির মধ্যে সিজদা করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ করো এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ করো।’ -সহিহ বুখারি : ২০২৭

এখান থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা হলো, আমরা রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করব এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করব। আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে ইতিকাফের গুরুত্ব অনুধাবন করে আমল করার তাওফিক দান করুন। লাইলাতুল কদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি রাতে ইবাদত করে হাজার বছরের ইবাদতের পুণ্য লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত