কয়েক বছর ধরে রাজধানীতে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটেছে। ঈদের ছুটিতে তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ফলে এবারের ঈদের ছুটি ঘিরে চুরি-ছিনতাইয়ের ভয় বেড়েছে নগরবাসীর। প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকার বাইরে পরিবারের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে। এ সুযোগে অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে ফাঁকা সড়কের পথচারী।
এবার ঈদের আমেজের শুরুতেই গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার রেলক্রসিং এলাকায় বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তর টিভির দুটি গাড়িতে হামলার পর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, হামলার পর গাড়িতে থাকা নগদ টাকা ও পরিবারের জন্য কেনা ঈদের নতুন পোশাক নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। একাত্তর টিভির রিপোর্টার ইশতিয়াক ইমন জানান, রাতে বারিধারা অফিস থেকে ধানমন্ডিতে দুজন ভিডিও এডিটরকে নামিয়ে দিতে যাচ্ছিল একটি গাড়ি। কারওয়ান বাজার রেল ক্রসিং সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়ালে একাত্তর টিভির গাড়িচালক মাহবুবের গলায় খুর ঠেকিয়ে তার মানিব্যাগ কেড়ে নিয়ে হামলা করে ছিনতাইকারীরা। হামলার খবর পেয়ে ইশতিয়াক ইমন ক্যামেরাম্যানসহ ঘটনাস্থলে যান। এসময় ছিনতাইকারীরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের লক্ষ্য করে আরও ইট পাথর নিক্ষেপ করে।
এর আগে রবিবার রাতে লালবাগের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসন কোয়ার্টার্সের সামনে থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ধারালো চাকুর (সুইস গিয়ার) ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করছিল।
ডিএমপির লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. ইমরান হোসেন মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়েছে ছিনতাই চক্র। পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। সাধারণ মানুষের ঈদকে নিরাপদ ও আনন্দময় করতে নিরলসভাবে কাজ করছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই বা অন্য কোনো প্রকার অপরাধ করার সুযোগ নেই।
ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন এলাকায় বাসায় গ্রিল কেটে চুরি বেড়ে যায়। চুরি হওয়া বাড়িগুলোয় সাধারণত সিসিটিভি ক্যামেরা থাকে না, আলো জ্বলে না ও দারোয়ান থাকে না। ডিএমপির মুখপাত্র ফারুক হোসেন বলেন, শুধু পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা চুরি ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট নয়। পুলিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। পাশাপাশি বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের সতর্ক থাকতে হবে। ঘরের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে পুলিশের পাশাপাশি ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে র্যাব। তাদের গোয়েন্দা দল, চেকপোস্ট, রোবাস্ট প্যাট্রল ও টহল টিমের পাশাপাশি কিছু এলাকার জন্য বিশেষ দল মোতায়েন রয়েছে।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকা অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। এ সুযোগে ছিনতাই ও চোরচক্রের সদস্যরা যাতে তৎপর হয়ে উঠতে না পারে সেজন্য এলাকাভিত্তিক গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম চলছে র্যাবের। প্রত্যেক পাড়া—মহল্লার বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে র্যাবের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর দেওয়া হচ্ছে যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়। ফাঁকা ঢাকায় ছিনতাই রোধে চিহ্নিত রাস্তাসহ প্রত্যেক সড়ক ও পাড়া-মহল্লায় মোটরসাইকেল প্যাট্রল টিম ২৪ ঘণ্টা টহলে থাকবে। যাতে করে কোনো নাগরিক ছিনতাইকারীর কবলে না পড়েন।
এদিকে রাজধানীবাসীকে ১৩টি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। এতে বলা হয়েছে, বাসাবাড়িতে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরা বসাতে হবে। আগে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরা সচল আছে কি না, সেটি পরীক্ষা করতে হবে। বাসার চারপাশে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া নগদ টাকা কিংবা স্বর্ণালংকার ব্যাংক কিংবা নিকটাত্মীয়দের কাছে নিরাপদে রাখতে হবে। রাতে কিংবা দিনে একসঙ্গে মুখে মাস্ক এবং মাথায় ক্যাপ পরিহিত অপরিচিত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরদারি করতে হবে। প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিতে হবে।
বাঁচানো গেল না সেই চিকিৎসককে
সারা দেশে কোথায় কখন ঈদ জামাত
সার্কাসে নাচের ভিডিও নিয়ে যা বললেন ওমর সানী