ঈদের ছুটিতে কর্মস্থল ছেড়ে সবাই যখন পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ করতে ব্যস্ত তখন একদল মানুষ কর্মস্থলে সেবা দিতে ব্যস্ত। চিকিৎসক,নার্স ও মেডিকেল স্টাফ, পুলিশ, আনসার, ফায়ারসার্ভিস, গণমাধ্যমকর্মী, ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও বেশ কিছু মানুষের সময় কাটছে কর্মস্থলে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালেরও চিকিৎসক। অধ্যাপক স্বপ্নীলের ঈদ কেটেছে কর্মস্থলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে ঈদের দিন বৃহস্পতিবার তিনি জানান, ‘আমার ঈদ, এই দুজন রোগী ল্যাবএইড স্পেশালইজড হসপিটালে আমার অধীনে ভর্তি হন রক্তক্ষরণ নিয়ে। প্রথমজনের রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো মুখ দিয়ে, আর অন্যজনের পায়ুপথে। এই মাত্র এন্ডোস্কোপি করে প্রথমজনের ক্ষুদ্রান্ত্রে দুটো বড় আলসারে হেমোস্টেটিক ক্লিপিং করে দিলাম। আর অন্যজনের প্রোক্টোস্কোপি করে হেমোরয়েড ব্যন্ড লাইগেশন করলাম। দুজনই ভালো আছেন। মাত্রই ল্যাবএইড স্পেশালইজড হসপিটালের এন্ডোস্কোপি স্যুইটে প্রসিডিওর দুটো শেষ করে, দুজন রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলে বাসার পথ ধরছি।
সিলেটের জিন্দাবাজার এলাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত লাহিন মিয়া। তার বাড়ি দিনাজপুরের ফুলবাড়িয়ায়। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ৫ বছর ধরে তিনি ঈদে বাড়ি যেতে পারেন না। ব্যাংক বন্ধ থাকায় এই সময়ে গ্রাহকদের চাপ থাকে আবার মানুষের আনাগোনা কম থাকায় অধিক নিরাপত্তায় এ সময় তৎপর থাকতে হয়।
তিনি বলেন, পরিবার আমাকে ছাড়া ঈদ করতে কষ্ট পায়। ঘুম থেকে উঠে মেয়েটা কান্নাকাটি করেছে, পরে আমি ভিডিও কলে কথা বলে তাকে ঈদের পর বাড়ি যাব বলেছি।
নগরীর একটি বাড়িতে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্বে রয়েছেন ফজর আলী। তারও ঈদ কেটেছে কর্মস্থলে। ঈদ কেমন কাটলো এমন প্রশ্নে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই সময়ে বাসার অনেকেই দরজা তালা দিয়ে গ্রামে চলে যায়, পাশাপাশি মহল্লায় ও মানুষ কম থাকে। তাই আমাদের সতর্ক পাহারায় থাকতে হয়। বাড়ি যেতে না পেরে খারাপ লাগলেও ঈদের দিন মন্দ কাটেনি আমার। বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ারা আমাকে বাসায় ডেকে নিয়ে খাওয়া দাওয়া করিয়েছেন, বখশিশ দিয়েছেন। এই কয়েকদিন আমাকে তাদের বাসায় খাওয়া দাওয়া করতে বলেছেন।
একটি বেসরকারি গণমাধ্যম কর্মী মাহমুদ হাসান। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে কর্মস্থলে প্রথমবারের মতো ঈদ করেছেন মাহমুদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগের রাত পর্যন্ত খুব খারাপ লেগেছে। সকালে জামাত পড়ে অফিসে আসি। এরপর সহকর্মীরা ঈদের কুশল বিনিময় করি। সিনিয়রদের কাছ থেকে সালামিও পেয়েছি। এক সহকর্মী বাসা থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে এসেছেন। সব মিলিয়ে মন্দ কাটেনি।
তবে রিকশাচালক ফজলু মিয়ার গল্প অবশ্য ভিন্ন। রংপুরের এই রিকশাচালক এবার ঈদ করেছেন সিলেটে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের আগে গাড়ি ভাড়া বেড়ে যায় এ জন্য বাড়ি যেতে পারিনি। তাছাড়া চাঁদরাত পর্যন্ত মানুষ শপিংয়ে বের হয় ফলে ইনকাম ভালো হয়। তাই বাড়ি না গিয়ে রিকশা চালিয়েছি। নিজে বাড়ি যাই নি, টাকা টা দেশে পাঠিয়ে দিয়েছি যেন তারা ঈদ করতে পারে।
