বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ, কে প্রবর্তন করেছিলেন তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বাংলাদেশের গবেষক ও ইতিহাসবিদরা একমত যে, এর সূচনা হয়েছিল সম্রাট আকবরের হাতে। গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক নন, মুঘল সম্রাট আকবরই বাংলা সনের প্রবর্তক। যদিও ভারতের হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী আরএসএস ও তাদের অনুসারী সংগঠনগুলো, পশ্চিমবঙ্গে জোরালো প্রচার ও ‘সচেতনতা অভিযান’ শুরু করেছে এই বলে যে, মুঘল সম্রাট আকবর নন, গৌড়ের প্রাচীন হিন্দু রাজা শশাঙ্কই বাংলা সন বা ‘বঙ্গাব্দ’ প্রবর্তন করেছিলেন!
রাজা শশাঙ্ক মারা গিয়েছিলেন ৬৩৭ বা ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ। এর মোটামুটি ৪৫ বছর আগে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন এবং তখন থেকেই (৫৯৩ খ্রিস্টাব্দ) বঙ্গাব্দ চালু করা হয় এটা ধরে নিলে কথাটা অনেকটা মিলে যায়।
কারণ বঙ্গাব্দের সঙ্গে খ্রিস্টীয় অব্দের ব্যবধানও ঠিক ৫৯৩ বছরের। এই মুহূর্তে যেমন ১৪২৯ বাংলা সন শেষ হয়ে নতুন-১৪৩০, আর সেটা ইংরেজি বা খ্রিস্টীয় ২০২২ সাল ফলে গণনার ব্যবধানটা ৫৯৩ বছরের। তবে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গবেষক অমর্ত্য সেন তার একাধিক নিবন্ধ, বক্তৃতা ও গ্রন্থে মুঘল সম্রাট আকবরকেই বঙ্গাব্দের প্রবর্তক হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছেন।
‘বঙ্গাব্দে’র সূচনা সম্পর্কে প্রচলিত রয়েছে বেশ কিছু মত। এর মধ্যে মাত্র দুটি মতকেই মোটামুটিভাবে প্রামাণ্য হিসাবে ধরা হয়। একটি মত বলছে, বঙ্গাব্দের সূচনা করেন গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক। সপ্তম শতাব্দীর শুরুতে বঙ্গদেশের রাজা ছিলেন শশাঙ্ক। এ অঞ্চলটির এদিক-ওদিকে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট স্বাধীন রাজ্যগুলোকে এক সুতায় বেঁধে, বাঙালি জাতিসত্তাভিত্তিক গৌড় রাজ্যের সূচনা করেন তিনি। অধিকাংশ ইতিহাসবিদ মনে করেন শশাঙ্কই বাংলার প্রথম স্বাধীন শাসক। যার রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ বা কানসোনা। তখন অগ্রহায়ণ মাসে ধান কাটা শুরু হতো বলে, এই মাসকে বছরের প্রথম মাস ধরা হতো। তাই এ মাসের নাম রাখা হয় অগ্রহায়ণ। ‘অগ্র’ অর্থ প্রথম আর ‘হায়ণ’ অর্থ বর্ষ বা ধান।
ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর, সম্রাটরা হিজরি পঞ্জিকা অনুসারে কৃষিপণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, তা কৃষি ফলনের সঙ্গে মিলত না। ফলে অসময়ে কৃষকদের খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হতো।
খাজনা আদায়ের সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর, বাংলা সালের প্রবর্তন করেন। তিনিই মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতে, তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরি সনের ওপর ভিত্তি করে, নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে ‘বঙ্গাব্দ’ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।
সুনীল কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় তার ‘বঙ্গাব্দের উৎসকথা’ বইয়ে বলছেন ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ এপ্রিল গৌড়ের সিংহাসনে বসেন শশাঙ্ক। সেদিন থেকেই বাংলা সন বা বঙ্গাব্দের প্রচলন। এই মত অনুসারে, পরবর্তীকালে অনেকেই দাবি করেন যেদিন শশাঙ্ক সিংহাসনে আরোহণ করেন সেদিন থেকেই বাংলা বর্ষপঞ্জি বা বঙ্গাব্দের গণনা শুরু। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ঠিক কোন সময়ে শশাঙ্ক ক্ষমতায় এসেছিলেন, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ঐতিহাসিকরা তার যে শাসনকালের উল্লেখ করেন, তার অনেকটাই নিছক অনুমান। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, তার শাসনকাল ছিল ৬০০-৬২৫ খ্রিস্টাব্দ। সেই সময়ের কিছু প্রামাণ্য পুঁথিতে আবার ‘গুপ্তাব্দ’ শব্দটার উল্লেখ পাওয়া যায়।
খুব স্বাভাবিকভাবেই কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, শশাঙ্কই যদি বঙ্গাব্দের সূচনা করে থাকেন, তাহলে বঙ্গাব্দের বদলে ‘গুপ্তাব্দ’ শব্দটা ব্যবহৃত হলো কেন? খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দী, ভারতবর্ষের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভানুগুপ্তের হাতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের ঘণ্টা বেজে গেছে ততদিনে। আসলে ‘বঙ্গ’ কোনো শাসকের নাম নয়। তাই শিলালিপি দেখে শাসনকাল খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ১৯৫৪ সালে ভারতীয় পঞ্জিকা সংস্কার কমিটির প্রধান ড. মেঘনাদ সাহা অঙ্ক কষে নিশ্চিত করেছিলেন যে, সম্রাট আকবরই বাংলা সনের প্রবর্তক।
গবেষক ও বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলা অঞ্চল তখন ‘হিজরি’ সনে পরিচালিত হতো। কিন্তু বাংলা ছিল কৃষিপ্রধান। ফলে খাজনা দেওয়াসহ নানা কাজে বছরের শুরু হিসাব করতে সমস্যা হতো। এ কারণেই সম্রাট আকবর তখন বাংলা সন প্রবর্তন করেছেন পহেলা বৈশাখ দিয়ে যার শুরু। আসলে রাজা শশাঙ্ক যেটা করেছিলেন, সেটা শতাব্দ। আর সম্রাট আকবর যে সন চালু করেছিলেন, সেটি বঙ্গাব্দ এবং এটি ছিল কৃষকদের কর দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। আগে বাংলায় বছরের শুরু হতো অগ্রহায়ণ দিয়ে, কারণ তখন কৃষকের ঘরে ফসল আসত। কিন্তু খাজনা আদায়সহ নানা কিছু চিন্তা করেই বাংলা সন, পহেলা বৈশাখ থেকে নির্ধারণ করা হয়। এটিকে প্রথমে ফসলি সন বলা হলেও পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিতি পেতে শুরু করে।
আকবরনামায় আবুল ফজলের বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাজকার্যে যে ক্যালেন্ডার ব্যবহৃত হতো তা ছিল হিজরি ক্যালেন্ডার। আকাশে চাঁদের অবস্থান, পূর্ণিমা অমাবস্যার হিসেবের ওপর ভর করে চলত সেই ক্যালেন্ডার। কিন্তু চাষের কাজে চাঁদের থেকেও সূর্যের অবস্থান বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। তাই কৃষিকাজের জন্য যে ক্যালেন্ডার প্রচলিত ছিল, তা ছিল সৌর ক্যালেন্ডার।
একই সাম্রাজ্যে দুরকম ক্যালেন্ডারের প্রচলন থাকায় নানাক্ষেত্রে বিপদে পড়তেন সাধারণ মানুষ। দুটি ক্যালেন্ডারের গণনা পদ্ধতিতে দিনের তফাত থাকায়, কর সংগ্রহে খুবই অসুবিধা হতো। যে সময় চাষির ঘরে ফসল উঠত, কর সংগ্রহ করা হতো তার অনেক পরে হিজরি ক্যালেন্ডার মেনে। স্বাভাবিকভাবেই এতে সমস্যায় পড়তেন গরিব কৃষক। দেরিতে হলেও, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিকভাবে শুরু হয় চিন্তাভাবনা। ৩২টি সৌরবর্ষ ৩৩টি চান্দ্রবর্ষের সমান হওয়ায় চাষিরা বাধ্য হতেন অতিরিক্ত এক বছরের খাজনা দিতে। আকবর ভাবলেন খাজনা আদায় যাতে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় হয় এবং দেশের গরিব চাষিদের যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত খাজনা না দিতে হয়। সভাসদ জ্যোতির্বিদ আমির ফতুল্লাহ শিরাজীর সহযোগিতায়, সৌর সন আর হিজরি সনের ওপর ভিত্তি করে ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ থেকে ‘তারিখ-এ-এলাহি’ নামে নতুন এক বছর গণনা পদ্ধতি চালু করেন।
ঐতিহাসিকদের মতে, সম্রাট আকবর সিংহাসনে বসেন ৯৬৩ হিজরি সনে, ইংরেজি হিসেবে সেটা ১৫৫৬ সাল। তার নির্দেশ অনুসারে, ওই ৯৬৩ হিজরি সন থেকেই তারিখ-ই-ইলাহির প্রথম দিন ধরা হয়েছিল। ১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ফতেহউল্লাহ সিরাজি প্রবর্তিত এই নতুন সাল ‘ফসলি সন’ নামে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপকভাবে প্রসিদ্ধ লাভ করে। পরবর্তী সময়ে এ ফসলি সনই বাংলা সন বা ‘বঙ্গাব্দ’ নাম ধারণ করে। তারিখ-ই-ইলাহিতে মাসগুলোর নাম ছিল ফরওরদিন, অর্দিবিহিষ্ট, খুরর্দাদ, তির, অমুরদাদ, শারেবার, মিহ্র, আবান, আজর, দয়, বহ্মন এবং ইস্ফন্দারমজ। পরে আকাশের বিভিন্ন নক্ষত্রের নাম অনুসারে বাংলা সনের মাসগুলোর নামকরণ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই নামগুলো নেওয়া হয়েছে ৭৮ খ্রিস্টাব্দে সাকা জাতির রাজত্বের সময়, প্রচলিত শকাব্দ থেকে। চাঁদের ২৭টি নক্ষত্র, সেই তারাদের মধ্যে প্রধান কয়েকটি তারার নাম অনুসারে বাংলা মাসগুলোর নাম দেওয়া হয়। যেমন- মাসের শুরুতে বিশাখা নক্ষত্রের নাম থেকে বছরের প্রথম মাসের নাম বৈশাখ। জেষ্ঠা নক্ষত্রের নাম থেকে দ্বিতীয় মাসের নাম জ্যৈষ্ঠ। তৃতীয় মাস অষধা নক্ষত্রের সময়কাল, তাই সেই মাসের নাম আষাঢ়। একইরকমভাবে শ্রবণা নক্ষত্র থেকে শ্রাবণ। ভাদ্রপাদ বা ভদ্রা নক্ষত্রের সময়কাল থেকে ভাদ্র। ভাদ্রের পর চাঁদ অশ্বিনী নক্ষত্রের কক্ষপথে বিরাজ করে। তাই ভাদ্রের পরের মাস আশ্বিন। আবার হেমন্তকালে চাঁদ থাকে কৃত্তিকা নক্ষত্রে, কৃত্তিকার নাম থেকেই সে মাসের নাম কার্তিক। আবার মৃগশিরা নক্ষত্রের আরেক নাম অগ্রহায়ণী, তাই মৃগশিরার মাস অগ্রহায়ণ। একইরকমভাবে পুষ্যা থেকে পৌষ, মঘা থেকে মাঘ, ফাল্গুনী থেকে ফাল্গুন আর চিত্রা নক্ষত্রের নামানুসারে চৈত্র মাসের নামকরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সোমবার হচ্ছে সোম বা শিব দেবতার নাম অনুসারে, মঙ্গলবার হচ্ছে মঙ্গল গ্রহের নাম অনুসারে, বুধবার হচ্ছে বুধ গ্রহের নাম অনুসারে, বৃহস্পতিবার হচ্ছে বৃহস্পতি গ্রহের নাম অনুসারে, শুক্রবার হচ্ছে শুক্র গ্রহের নাম অনুসারে, শনিবার হচ্ছে শনি গ্রহের নাম অনুসারে আর রবিবার হচ্ছে রবি বা সূর্য দেবতার নাম অনুসারে।
আমাদের দেশে প্রচলিত বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন, মূলত ইসলামি হিজরি সনেরই একটি রূপ। ভারতে ইসলামী শাসনামলে হিজরি পঞ্জিকা অনুসারেই সব কাজকর্ম পরিচালিত হতো। মূল হিজরি পঞ্জিকা চান্দ্র মাসের ওপর নির্ভরশীল। চান্দ্র বছর সৌর বছরের চেয়ে ১১/১২ দিন কম হয়। কারণ সৌর বছর ৩৬৫ দিন, আর চান্দ্র বছর ৩৫৪ দিন। এ কারণে চান্দ্র বছরে ঋতুগুলো ঠিক থাকে না। আর চাষাবাদ ও এ জাতীয় অনেক কাজ ঋতুনির্ভর। এ জন্য ভারতের মোগল সম্রাট আকবরের সময় প্রচলিত হিজরি চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলা সনে দিনের শুরু ও শেষ হয় সূর্যোদয়ে। ইংরেজি বা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির শুরু হয় যেমন মধ্যরাত হতে । ‘সন’ একটি আরবি শব্দ। আবার ‘সাল’ শব্দটি উর্দু ও ফার্সি ভাষায় ব্যবহৃত হয়। আর বাংলায় সনকে ‘অব্দ’ নামে অভিহিত করা হয়। তখন চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে খাজনা, শুল্ক দিতে হতো কৃষকদের। তাই তখন থেকেই সম্রাট আকবর কৃষকদের জন্য মিষ্টি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। হালখাতার প্রচলনও সম্রাট আকবরের সময় থেকেই ব্যবসায়ীরা করেছেন।
সোনারগাঁওয়ে ঈসা খাঁ-এর আমলে, বউমেলা হতো। সেখানে স্থানীয় বটতলায় কুমারী, নববধূ ও মায়েরা তাদের মনের ইচ্ছা পূরণে পূজা করত। পাঁঠা বলি দেওয়া হতো আগে। তবে এখন শান্তির বার্তার আশায় তারা দেবীর কাছে কবুতর বা পায়রা উড়িয়ে দেয়। এ ছাড়াও সোনারগাঁও এ ঘোড়ামেলারও প্রচলন ছিল। লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, আগে যামিনী সাধন নামের এক ব্যক্তি নববর্ষের দিন ঘোড়া চড়ে সবাইকে প্রসাদ দিত। তার মৃত্যুর পরে সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ বানানো হয় এবং পরবর্তী সময় এটিকে কেন্দ্র করে মেলার আয়োজন হয়। আগে মাটির ঘোড়া রাখা হতো, এরপর থেকে মেলায় নাগরদোলা, চরকা, ঘোড়ার আকারে ঘূর্ণি দোলনা রাখা হয়। বর্তমানের বাংলা সন এসেছে, গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে। বাংলাদেশে এই গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে প্রতিবছর ১৪ এপ্রিল শুভ নববর্ষ পালিত হচ্ছে। ১৯৮৯ সাল থেকেই মঙ্গল শোভাযাত্রা বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের একটি প্রধান আকর্ষণ।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ইউনেসকো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে আয়োজিত যে মঙ্গল শোভাযাত্রার বের করে, সেটিকে ‘মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলাদেশে নববর্ষ ১৪ এপ্রিল পালিত হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা ১৫ এপ্রিল পালন করা হয়। কারণ, ভারতে হিন্দু সম্প্রদায় তিথি পঞ্জিকা অনুসরণ করে থাকে। বাংলাদেশে আধুনিক বাংলা বর্ষপঞ্জিকায় গ্রেগরীয় পঞ্জিকা অনুসারে বাংলা একাডেমি কর্র্তৃক ১৪ এপ্রিল বাংলা বছরের প্রথম দিন নির্দিষ্ট করা হয়।
পহেলা বৈশাখ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলত কণ্ঠে গান গেয়ে নতুন বছরকে আহ্বান জানান। স্থানটির পরিচিতি বটমূল হলেও, প্রকৃতপক্ষে যে গাছের ছায়ায় মঞ্চ তৈরি হয় সেটি বটগাছ নয়, অশ্বত্থ গাছ। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানটের এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা।
শুভ নববর্ষ, বাঙ্গালির প্রাণে বাজুক মনুষ্যত্বের দোলা/ আপন হৃদয়ে থাকুক, অপর চিহ্ন খোলা।
