বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘গোশত সমিতি’র কল্যাণে কম দামে বেশি মাংস ঘরে

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২৬ পিএম

ঈদুল ফিতরের আগে চড়াও ছিল মাংসের বাজার। চড়া দামে বিক্রি হয় সব ধরণের মাংস। গরুর মাংস, খাসির মাংস, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম বাড়ে কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। যা ঈদের দিন শতক ছাড়িয়ে যায়। তবে এবার রমজান থেকে গরুর মাংস ‘বয়কট’-এর ডাক দিয়ে মহল্লায় মহল্লায় গড়ে তোলা ‘গোশত সমিতি’ স্বস্তি দিয়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে।

দেশের বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের আগে এবং ঈদের দিন বাজারে গরুর মাংস ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। খাসি বিক্রি হয়েছে ১১০০ টাকার ওপরে। যা ছিল মধ্যবিত্তের সক্ষমতার বাইরে।

তবে ‘গোশত সমিতি’র কল্যাণে কম দামে বেশি মাংস ঘরে তুলতে পেরেছেন অংশীদাররা। ভাগে পাওয়া মাংসের কেজি পড়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। একই সঙ্গে ‘গোশত সমিতি’র কার্যক্রম মহল্লায় ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে সবার মাঝে।

রমজানের শুরুতে তরমুজের কেজি ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় রাজধানীতে। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তরমুজ বয়কটের ডাক দেয় অনেকে। ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দাম কমতে থাকে তরমুজের। পরে রমাজানের মাঝামাঝি গরুর মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বয়কটের ঘোষণা আসে ফেসবুকে। তবে এর বিপরীতে অনেকে ‘গোশত সমিতি’ গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন। যদিও অনেক এলাকায় ‘গোশত সমিতি’র প্রচলন আগে থেকেই ছিল।

নিম্ন আয়ের বেশ কয়েকজন মিলে একটি সমিতি বা সংগঠন তৈরি করে। যার নাম দেওয়া হয় ‘গোশত সমিতি’। সমিতির সদস্যরা সাপ্তাহিক বা মাসিকভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা করে। ঈদ, শবে বরাত, শবে কদর, যে কোনো উৎসব এবং গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে সেই সমিতির মাধ্যমে জমাকৃত টাকায় গরু কিনে গোশত ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়। এতে গোশতের দাম বাজারের তুলনায় অনেক কম হয়।

আবার অনেক এলাকায় উৎসব উপলক্ষে কয়েকজন চাঁদা তুলে একটি পশু কিনে জবাই করেন। পরে টাকার পরিমাণ অনুযায়ী মাংসের ভাগ পান তারা।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পাড়া-মহল্লায় ঘুরে গোশত সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জনা য়ায়, তারা সমিতিতে সাপ্তাহিক অথবা মাসিক হারে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখেন। এভাবে জমাকৃত টাকায় কেনা হয় গরু। ঈদের দু-একদিন আগে ক্রয়কৃত পশু জবাই করে গোশত সমিতির প্রত্যেক সদস্য তা ভাগ করে নেন।

এবারের ঈদে গুরুদাসপুরের বিভিন্ন মহল্লায় ‘গোশত সমিতি’র মাংসের কেজি পড়েছে ৬৮০ টাকা। শহিদুল মণ্ডল নামের এক অংশীদার বলেন, বাজারের তুলনায় এবার ১০০ টাকা কমে মাংস পেয়েছি সমিতিতে। এর চেয়ে বড় লাভ নিজের চোখের দেখা গরুর টাটকা মাংসই ঘরে আসছে। এখানে ভেজাল বা কসাইয়ের দুর্নীতি মুক্ত।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার আবুল কালাম বলেন, ঈদের আগে ২০০০ টাকা চাঁদা দেই সমিতিতে। ঈদের দিন ভোরে গরু জবাই করে তিন কেজি ১০০ গ্রাম মাংস পেয়েছি।

এদিকে যেসব এলাকায় ‘গোশত সমিতি’ গড়ে উঠেছে সেসব এলাকার মাংসের বাজারে ক্রেতা কম দেখা গেছে। গরুও জবাই হয়েছে কম। কসাইদের রমরমা ব্যবসায় ভাটা পড়েছে এসব এলাকার বাজারে।

মাংস ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ঈদে গরুর মাংস কম বিক্রি হয়েছে। দামের বিষয়ে তারা বলেন, কেনা এবং খরচ মিলিয়ে ৭৫০ টাকার নিচে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। এর নিচে গরুর মাংস বিক্রি সম্ভব না।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত