তীব্র খরতাপে পুড়ছে রাজশাহী, নেই বৃষ্টির পূর্বাভাস

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৩ পিএম

সারা দেশে তীব্র তাপদাহ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে কয়েকদিনের মাঝারি খরতাপের পর বুধবার এখানে তাপমাত্রার পারদ তীব্রতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এদিন এখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে এটিই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

এদিকে লাগাতার খরার কবলে পড়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ। বোরো ধানে চরম পানি সংকট দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির অভাবে গাছপালার জীর্ণ দশা হয়েছে। সব থেকে ঝুঁকিতে আছে আম ও লিচু চাষিরা। খরায় আমের বোঁটা শুকিয়ে যাচ্ছে। গাছের গুটি আম ঝরে পড়ছে।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের তথ্য মতে, সাধারণত দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকলে তাকে মৃদু তাপদাহ বলা হয়। আর ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভেতর থাকলে তাকে মাঝারি তাপদাহ হিসেবে ধরা হয়। আর ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে ধরা হয় তীব্র তাপদাহ হিসেবে। এই হিসেবে রাজশাহীতে চলমান মাঝারি তাপপ্রবাহ আজ রূপ নিয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যোবেক্ষক রাজিব খান জানান, বুধবার রাজশাহীতে তীব্র তাপদাহ শুরু হয়েছে। এদিন বিকেল তিনটায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে দিনের সর্বনিম্ন ত্রাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে চলতি মাসের ৬ তারিখ রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিলো ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর থেকে তাপমাত্রা কিছুটা নমনীয় হয়। কিন্তু গত তিনদিন ধরে আবারো তা বেড়ে যায়। ১৫ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠে ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি, আর পরদিন মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জ্যেষ্ঠ পর্যোবেক্ষক রাজিব খান বলেন, বৃষ্টি না হলে তাপমাত্রা বাড়বেই। আর আপাতত বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস নেই। গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার খরা পরিস্থিতির কারণে রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেছে। বিশেষ করে দুপুরে কেউ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছে না। জ্বর, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়রিয়া, হাঁপানি, জ্বরে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত