রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনে সক্ষম নয় বাংলাদেশের জনগণ: যুক্তরাষ্ট্র

  • প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত বছর বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক ঘটনা ঘটেছে
  • সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের শাস্তির জন্য পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়
আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০১:২৯ পিএম

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির আবারও কড়া সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সময় সোমবার (২২ এপ্রিল) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত ‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাক্টিসেস ফর ২০২৩’ শীর্ষক লাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন এক সংবাদ সম্মেলন করে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত বছর বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক ঘটনা ঘটেছে। আর অধিকাংশ ঘটনার ক্ষেত্রে সরকার জড়িত কর্মকর্তা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শনাক্ত করতে এবং শাস্তি দিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে স্বাধীন আন্দোলনে বাধা দেয়া হয়। আছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের সরকার পরিবর্তনে নাগরিকদের অক্ষমতা।

প্রতিবেদনে গত বছর বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বেশ কিছু বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকার কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, সরকারের নির্যাতন বা নিষ্ঠুরতা, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি; কঠোর ও জীবনের জন্য হুমকি এমন কারাগার পরিস্থিতি। এ ছাড়া নির্বিচারে গ্রেপ্তার বা আটক; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর সমস্যা; রাজনৈতিক ও অন্যান্য বন্দি, সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও অযৌক্তিক গ্রেপ্তার, মত প্রকাশ সীমিত করার জন্য ফৌজদারি মানহানি আইনের ব্যবহার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ইন্টারনেট ক্ষেত্রে স্বাধীনতার ওপর গুরুতর বিধি-নিষেধের কথা বলা হয়েছে।

পুলিশের উল্লেখযোগ্য মাত্রায় শক্তি প্রয়োগের অভিযোগগুলোর তদন্তের দাবি তুলে বলা হয়, সরকার বা সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ নির্বিচারে বা বেআইনিভাবে হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেলেও সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী কর্মকর্তা বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের চিহ্নিত করতে এবং শাস্তি দেয়ার জন্য বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রতিবেদনে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ওপর গুরুতর ও অযৌক্তিক বিধি-নিষেধ, সরকারি খাতে বড় ধরনের দুর্নীতি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ওপর গুরুতর বিধি-নিষেধকেও সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বাল্যবিবাহ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, যৌন সহিংসতা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। শিশুশ্রমের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে খারাপ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত