ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টানা চার ম্যাচ জয়ে ছিল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কালও উঁকি দিচ্ছিল আরেকটি জয়হীন রাত। দুই দফা পিছিয়ে পড়েছিল তারা। তবে প্রতিবারই সমতা ফিরে আসে। শেষ দিকে আরও দুবার শেফিল্ড ইউনাইটেডের জালে বল পাঠিয়ে দারুণ জয় তুলে নিল এরিক টেন হাগের দল। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বুধবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ৪-২ গোলে জিতেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন ব্রুনো ফের্নান্দেস। একবার করে জালের দেখা পান হ্যারি ম্যাগুইয়ার ও গাসমুস হয়লুন।
ঘরের মাঠে ওনানার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৩৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় শেফিল্ড। সতীর্থের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্যামেরুনের গোলরক্ষক অন্য পাশে দুর্বল পাসে বল বাড়ান দালোতের উদ্দেশে, ছুটে গিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটু এগিয়ে ওনানার পাশ দিয়ে জালে পাঠান জেডেন বোগল। বেশিক্ষণ অবশ্য পিছিয়ে থাকতে হয়নি স্বাগতিকদের। ৪২তম মিনিটে সমতা টানেন ম্যাগুইয়ার। গারনাচোর ক্রসে চমৎকার হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন এই ইংলিশ ডিফেন্ডার।
বিরতির আগে এগিয়েও যেতে পারত তারা। ওনানার উঁচু করে বাড়ানো বল গাসমুস হয়লুনের পা ছুঁয়ে পেয়ে যান গারনাচো। এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের প্রচেষ্টা হাত বাড়িয়ে ঠেকান এগিয়ে থাকা ফোডারিংহ্যাম।
দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে ফের এগিয়ে যায় শেফিল্ড। সতীর্থের পাসে ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে শটে গোলটি করেন বেন দিয়াস। আট মিনিট পর দারুণ একটি সুযোগ হারান দালোত। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক, কিন্তু শট নিতে দেরি করে ফেলেন তিনি, বল ক্লিয়ার করেন শেফিল্ডের এক ডিফেন্ডার। ৬০তম মিনিটে কর্নারের পর শেফিল্ডের জালে বল পাঠায় ম্যানচেস্টারের দলটি, তবে তার আগেই ম্যাগুইয়ার ফাউলের শিকার হওয়ায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পট কিকে সমতা টানেন ফের্নান্দেস। ৮১তম মিনিটে দারুণ এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে গোলটি করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে দলের চতুর্থ গোলটি করেন হয়লুন। দারুণভবে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফের্নান্দেস পাস দেন দূরের পোস্টে, পা ছুঁয়ে জালে পাঠান ডেনিশ ফরোয়ার্ড।
যদিও লিগ টেবিলে শীর্ষ চার থেকে অনেকটা ব্যবধানে পিছিয়ে তারা। ৩৩ ম্যাচে ১৬ জয় ও ৫ ড্রয়ে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে ম্যানইউ। ৩৪ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ২০ দলের মধ্যে সবার নিচে আছে শেফিল্ড ইউনাইটেড।
