ভোটের মেরূকরণে জম্মু-কাশ্মীর

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৪, ১১:২৭ পিএম

ভারতের লোকসভা ভোটের তৃতীয় পর্বের ভোটগ্রহণ সামনে রেখে চলছে নির্বাচনী প্রচার। প্রথম দফা ভোটের পর ক্ষমতাসীন বিজেপি যেন তেড়েফুঁড়ে ধর্মীয় মেরূকরণের অস্ত্র শান দিয়ে চলেছে। এবার জম্মু ও কাশ্মীরের সংকটকে কেন্দ্র করে মেরূকরণকে যেন আরও তীব্র করতে চাইছে তারা। সংখ্যালঘু মুসলিমদের সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বাকি বিরোধীদের যেভাবে লাগাতার তুলোধুনো করছে বিজেপি নেতৃত্ব, জম্মু ও কাশ্মীর প্রশ্নে কংগ্রেসকেও একইভাবে বিঁধছে দলটি।

ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পরই জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা রদ করা হয়। রাজ্যের মর্যাদাও কেড়ে নেওয়া হয়। এ নিয়ে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা ধারাবাহিক আন্দোলন করে গেছে। এবার একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘কংগ্রেসসহ বিরোধীদের ক্ষমতা থাকলে ৩৭০ অনুচ্ছেদ ফিরিয়ে এনে দেখাক।’

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট তার বিলোপ ঘটায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। ওই সময় জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে পরিণত করা হয়। বর্তমানে কংগ্রেসসহ বিরোধীদের সামনে সত্যিকার অর্থেই উপত্যকার আগের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জটা ব্যাপক কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কারণ হিন্দুত্ববাদ-আশ্রিত ভারতীয় জাতীয়তাবাদী মনোভাবের সামনে বিরোধীদের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিজেপি সেই সুযোগটিই নিচ্ছে।

‘অনুচ্ছেদ ৩৭০’ বাতিলের পর চলতি বছর মার্চ মাসে প্রথম জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি কাশ্মীর উপত্যকার জনগণকে ভুল বোঝানোর অভিযোগ তুলেছিলেন কংগ্রেসসহ বিরোধীদের বিরুদ্ধে। এবার সরাসরি তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন। মোদি বলেন, ‘কংগ্রেসের ক্ষমতা থাকলে তারা সাংবাদিক বৈঠক করে বলুক, কেন্দ্রে ক্ষমতা দখল করলে জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ফিরিয়ে আনবে।’

গত বছর ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট ৩৭০ বাতিলের সরকারি পদক্ষেপে সম্মতি দিয়ে জানিয়ে বলেছিল, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক নয়। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সংবিধান বেঞ্চের রায়ে বলা হয়, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের সুপারিশে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা বৈধ।

এদিকে বিজেপির আরেক শীর্ষ নেতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারের একটি জনসভা থেকে বলেন, ‘আমি রাহুল গান্ধীকে অবহিত করতে চাই, যতক্ষণ একজন বিজেপি কর্মীও বেঁচে থাকবে, তত দিন কেউই জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ বাতিল করতে পারবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত