কিয়ামতের পূর্বে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে অদ্ভুত একটি প্রাণী বের হবে। সে প্রাণী পুরো পৃথিবীতে বিচরণ করবে। এটিকে কেয়ামতের বড় আলামত হিসেবে গণ্য করা হয়। কোরআন ও হাদিসে এ প্রাণীকে ‘দাব্বাতুল আরদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আরবি ‘দাব্বাতুন’ শব্দের অর্থ প্রাণী, যা জমিনে চলাচল করে। আর ‘আরদ’ অর্থ ভূমি বা ভূগর্ভ। একসঙ্গে এর অর্থ হলো ‘ভূগর্ভস্থ প্রাণী’।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ওই সময় আসার আগে কিয়ামত হবে না, যতদিন না পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় হবে। পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় হওয়ার পর মানুষ দাব্বাতুল আরদ দেখতে পাবে।’ (সহিহ মুসলিম)
‘দাব্বাতুল আরদ’ বের হওয়ার সময়কাল সম্পর্কে বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারি’তে পাওয়া যায়, কিয়ামতের কয়েকটি বড় আলামত ঘটে যাওয়ার পর এক বছর জিলহজ মাসের কোরবানির ঈদের দিবাগত রাত এত দীর্ঘ হবে যে, ভ্রমণে থাকা ব্যক্তিরা ক্লান্ত হয়ে যাবে, বাচ্চারা ঘুমাতে ঘুমাতে ক্লান্ত হয়ে জেগে উঠবে, গবাদি পশুরা চারণভূমিতে বের হতে ছটফট শুরু করবে, মানুষ ভয় ও আতঙ্কে কান্নাকাটি ও তওবা করতে থাকবে। এভাবে তিন চার দিন সময় পরিমাণ দীর্ঘ রাতের অবসান ঘটিয়ে চন্দ্রগ্রহণের মতো ক্ষীণ আলো নিয়ে পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হবে। এই নিদর্শন প্রকাশ পাওয়ার পর পৃথিবীর সব মানুষ আল্লাহর প্রতি ইমান আনবে এবং তওবা করবে। কিন্তু তখন ইমান ও তওবা কবুল হবে না। আকাশে আলো ফোটার পর মানুষ যখন বাইরে বের হবে তখন দুপুরের দিকে কাবা গৃহের পূর্ব দিকে অবস্থিত সাফা পাহাড় ভূমিকম্পে ফেটে যাবে। তখন সেখানকার জমিনের ভেতর থেকে দাব্বাতুল আরদ বের হবে।
‘দাব্বাতুল আরদ’ প্রাণীর আকৃতি প্রসঙ্গে বিভিন্ন হাদিসে আলোচনা এসেছে। সেসব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর ভেতর অনেক প্রাণীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে। অদ্ভুত এই প্রাণী কিছুটা উটের মতো হবে। পা হবে চারটি। মাথা হবে ষাঁড়ের মতো। চোখ হবে শূকরের মতো। কান হবে হাতির মতো। নাক হবে উটপাখির মতো। বুক হবে সিংহের মতো। রঙ হবে নেকড়ের মতো। কপাল হবে ভেড়ার মতো। ঘন পশমবিশিষ্ট হবে। মানুষের মতো চেহারা হবে। (ফাতহুল কাদির)
এ প্রাণী পুরো পৃথিবী ভ্রমণ করবে এবং সব মানুষের সঙ্গে কথা বলবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যখন তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবে পরিণত হবে, তখন আমি (কিয়ামত আগমনের নির্দশন হিসেবে) ভূমি থেকে তাদের জন্য দাব্বাতুল আরদ (ভূগর্ভস্থ একটি জন্তু) বের করব, যা তাদের সঙ্গে এ কথা বলবে যে, মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না। (সুরা নামল ৮২)