তীব্র গরমে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় পাল্লা দিয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির রেকর্ড হচ্ছে। এ অবস্থায় সুখবর দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, বৃষ্টির সুবাতাস আসছে পূর্বাঞ্চল দিয়ে। অর্থাৎ, দেশের পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট এলাকার জলীয়বাষ্পপূর্ণ বাতাস স্বস্তির বৃষ্টি নামাবে। এ বৃষ্টি আগামী সপ্তাহে বিস্তৃত হবে মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে।
বৃষ্টির এই পূর্বাভাস বিবেচনায় আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৃহস্পতিবারের পর থেকে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে যশোরে ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমে এপ্রিলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। এর আগে ১৯৮৯ সালের ২১ এপ্রিল বগুরায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রার পারদ উঠেছিল। এছাড়া গত সোমবার চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড হয় ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। গতকাল এ রেকর্ড ছাড়িয়ে পারদ ৪৩ দশমিক ৭-এ উঠেছে। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল জেলায় ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
এই অব্যাহত তাপমাত্রা বৃদ্ধি আর বেশিদিন থাকবে না বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী বৃহস্পতিবারের পর থেকে সারা দেশে কালবৈশাখীসহ বৃষ্টি হতে পারে।’
এই বৃষ্টি কোন দিক থেকে আসবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পূর্বাঞ্চল থেকে এই বৃষ্টি আসবে। আমরা ইতিমধ্যে সিলেট ও চট্টগ্রামে কালবৈশাখীসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছি এবং বৃহস্পতিবারের পর তা দেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।’
কিন্তু বছরের এই সময়ে তো পশ্চিম-মধ্যাঞ্চল দিয়ে বজ্রমেঘ প্রবেশের কথা। আর এই বজ্রমেঘ প্রবেশ না করায় তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী বলে অনেকের ধারণা। এ বিষয়ে কথা হয় সাউথ এশিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. মোহন কুমার দাশের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিহার এলাকা থেকে আসা বজ্রমেঘগুলো দেশের পশ্চিম-মধ্যাঞ্চল হয়ে প্রবেশ করত। কিন্তু এবার তা না হয়ে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবারের পর পূর্বাঞ্চল থেকে আসা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বাতাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।’
পূর্বাঞ্চল থেকে কেন আসবে, এই প্রশ্নের জবাবে মোহন কুমার দাশ বলেন, ‘মিয়ানমার এলাকায় (পার্বত্য চট্টগ্রামের বিপরীতে) এবং সিলেট প্রান্তে একটি উচ্চচাপ বলয় রয়েছে। মধ্যবর্র্তী এলাকায় একটি নিম্নচাপ বিরাজ করছে। উচ্চচাপ ও নিম্নচাপের মধ্যবর্তী এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং সেই বৃষ্টি মধ্যাঞ্চল হয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে সম্প্রসারিত হতে পারে।’
তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ‘দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে কালবৈশাখীর সঙ্গে বৃষ্টি ঢাকা হয়ে উত্তরের জেলাগুলোতে হতে পারে।’
বজ্রমেঘ নিয়ে দেশে অনেক গবেষণা করা এবং বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সের অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান বলেন, ‘এ সময়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বজ্রমেঘ দেশে প্রবেশ করে থাকে। কিন্তু পুবালি বাতাস অনেক শক্তিশালী। বজ্রপাত তেমন একটা হয়নি। তবে দেশের পূর্বাঞ্চলে স্বাভাবিকভাবেই এ সময় কালবৈশাখী হওয়ার
কথা। আর পুবালি বায়ু এখন শক্তিশালী হওয়ায় কালবৈশাখীর প্রভাবে মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রার প্রভাব কমে এসে শীতলতা বাড়াতে পারে।’
উল্লেখ্য, দেশে টানা ৩০ দিন ধরে তাপপ্রবাহ বইছে। এই ধারা আগামীকাল বৃহস্পতিবারের পর থেকে কমে আসতে পারে। সাধারণত কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৬ থকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে মাঝারি ও ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। আর ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হয়ে থাকে।