বৈরী আবহাওয়ায় আম-লিচুর ফলনে ধস নামার শঙ্কা

আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ০৫:২৫ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের আবহাওয়াতেও এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। দেশের খুলনা বিভাগের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সব জেলাগুলো আবহাওয়ার সংকুচিত পরিস্থিতিতে সবকিছুর মতোই ফল ফসলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমন বৈরী আবহাওয়ায় আম-লিচুর ফলনে ধস নামার শঙ্কা করছে চাষীরা।

সাতক্ষীরার বৃহত্তম আম চাষী ও ব্যাবসায়ী কবির হোসেন বলেন, আম্পানের পর থেকে দুই একবার আমের ফলন এসেছে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক। কিন্তু আম্পানে যেমন গাছ পড়ে আম ব্যাবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ঠিক তেমনি অতি গরমের কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্ষতির শিকার হয়েছে জেলার আমচাষীরা। তিনি জানান, তার সুলতানপুর, চাঁদপুর, ফিংড়ী, ধুলিহর, বুধহাটাসহ অন্তত দশটি বড় বাগানে আমের ফলন চল্লিশ ভাগও হয়নি। তারমধ্যে গরমের নানা রোগ ফলনকে করেছে বাঁধাগ্রস্ত।

জেলার আশাশুনি উপজেলার আমচাষী খায়রুল ইসলাম, আবু রায়হান, রেজাউল ইসলাম বলেন, এবার তাদের বাগানে শুয়োপোকার মড়কে তারা আমের কোনো ফলনের মুখ দেখেনি। তারা সর্বশান্ত।

সাতক্ষীরার সবথেকে বড় পাইকারী আমের হাট বেলতলা বাজারে যে পরিমাণ আম দেখা যেতো এবার তার কানাকাড়িও দেখা যাচ্ছে না। এ বাজারের বড় ব্যাবসায়ী মেহেদী হাসান বলেন, গুণগত কারণে সাতক্ষীরার আমের চাহিদা বিদেশের বাজারে যতটা ঠিক ততটাই দেশের ছোটবড় সব বাজারে। কিন্তু বেলতলা হাটে এখনও আসেনি কোয়ালিটি সম্পন্ন আম। তারমধ্যে প্রশাসনিক তৎপরতা বরাবরের মতো অনেক বেশী। কোনো ধরনের অপুষ্ট আম বাজারে তোলার চেষ্টা করলেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের দেয়া হচ্ছে কঠিন শাস্তি।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, হিট ওয়েভের ফলে এ জেলায় এবার আমের ফলন বিগত যে কোনো বছরের তুলনায় কম হয়েছে। এমনিতে অফ সিজন তার উপর হিটওয়েভে নষ্ট হয়েছে আমের ফলন। এ বছর ৪ হাজার ১১৮ হেক্টর জমিতে ৫০ হাজার মেট্রিকটন আমের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কিন্তু গরমের মধ্যে কখনই সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আম গাছে পানি না দেয়ার যে নির্দেশনা রয়েছে তা আমচাষীরা যথাযথভাবে না মানার কারণে আমে সকালে বিকেলে পানি দেয়ায় আম নষ্ট হয়েছে। সেদ্ধ বা শুকিয়ে তা নষ্ট হয়েছে। এই হিট ওয়েভে আম গাছে কেবল মাত্র পানি দেয়ার উপযুক্ত সময় মধ্যরাত থেকে ভোরের আগে। 

এদিকে সাতক্ষীরায় নেই লিচুর বাগান। যা আছে বাড়িতে ১ থেকে ৫টি বড় লিচুগাছ। সেটা থেকেই করা হয় লিচুর চাষাবাদ। কিন্তু এবার গরমের আগে শীতকালে অতিশীতে যথাযথ পরাগায়ণ না হওয়ায় আমের থেকে লিচুতে পড়েছে কয়েকগুণ বেশি নেতিবাচক প্রভাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত