বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

উত্তরের চেয়ে বেশি কুকুর দক্ষিণে

  • দেশে কুকুরের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ
  • রাজধানী ঢাকাতে ৭০ হাজারের বেশি কুকুর
  • ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আছে ৩৭ হাজার ৬১১ টি, আর উত্তর সিটিতে আছে ৩৩ হাজার ২৮৭টি। 
আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ১০:৩৮ পিএম

সম্প্রতি রাজধানীর ডেমরা এলাকায় কুকুরের আক্রমণে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এক শিশুর। বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়েছিল পাঁচ বছরের শিশু মাহিনুর। হঠাৎ একটি বেওয়ারিশ কুকুর তার ওপর আক্রমণ করে। পরে আরও তিনটি কুকুর শিশুটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন কুকুরগুলো তাড়ানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে আঘাত করলে কুকুরগুলো পালিয়ে যায়। ততক্ষণে কুকুরের কামড়ে-আঁচড়ে শিশুটির মুখ-মাথা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুধু শিশু মাহিনুরই নয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে। 

বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা দেশে কুকুরের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। রাজধানী ঢাকাতেই আছে ৭০ হাজারের বেশি কুকুর। এরমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আছে ৩৭ হাজার ৬১১ টি, আর উত্তর সিটিতে আছে ৩৩ হাজার ২৮৭টি। রাজধানীতে ২০২২ সালে দুজন জলাতঙ্ক রোগী শনাক্ত হয়। ওই বছর এই শহরে কুকুরের কামড় খেয়ে টিকা নিয়েছে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। গত বছর কোনো জলাতঙ্ক রোগী শনাক্ত না হলেও টিকা নিয়েছে ৬৩ হাজার ২৩২ জন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্কুল থেকে ফেরার পথে কিংবা খেলতে গিয়ে শিশুরা আহত হচ্ছে। রাতে গলির ভেতর কুকুরের ঘেউ ঘেউ ডাকে ভয় পাননি এমন মানুষের সংখ্যা কম। এ ছাড়া রাতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, রিকশা দেখলেই ছুটে আসে কুকুরের দল। তাদের তীব্র গতিতে ছুটে আসা দেখে ভয় পেয়ে চিৎকার করতে দেখা যায় নারী ও শিশুদের। অলিগলিতে রাতভর কুকুরের ডাকে ঘুম হারাম হয় নগরবাসীর। 

এদিকে ঢাকার রাস্তায় প্রায়ই অসুস্থ কুকুরকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। এসব কুকুর শহরে ঘুরে বেড়ায়। ফলে তাদের থেকে সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। ঢাকার রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে অসংখ্য মানুষ রাত কাটায়। এই মানুষগুলো সহজে অসুস্থ কুকুরের সংস্পর্শে গিয়ে অসুখ ছড়াতে পারে। একইভাবে রাস্তার পাশে খোলা দোকানেও এসব কুকুর থেকে সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫০ হাজারের ঊর্ধ্বে বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে। সুতরাং বেওয়ারিশ কুকুরের বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে আমাদের একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। সেজন্য সারা বিশ্বের মতো বেওয়ারিশ কুকুরের বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যত্বকরণ কার্যক্রম শুরু করছি। বড় বড় শহর বা উন্নত শহরগুলোতে বেওয়ারিশ কুকুর বা অন্যান্য প্রাণী যত্রতত্র চলাচল করতে পারে না। সেগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকে। নাগরিকরা সেগুলোর পরিচর্যা করেন, নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং সেভাবেই একটি সুন্দর শহর গড়ে ওঠে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যাপারে নজর না দেওয়ার কারণে ঢাকা শহরে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েছে।’

কুকুরের বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যত্বকরণের লক্ষ্যে উভয় সিটি করপোরেশন কার্যক্রম চালালেও তা ধীরগতিতে চলছে। দক্ষিণ সিটির ১০টি অঞ্চলে ৩ জন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও ১০ পরিদর্শকের জায়গায় মাত্র ৩ জন রয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটির ১০টি অঞ্চলে কোনো ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও পরিদর্শক নেই। ফলে কুকুরের সংখ্যা বেড়েই চলছে। 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বছররে ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আমরা ১ হাজার ৩০০ কুকুরকে টিকা দিয়েছি। আমাদের এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’ জনবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কয়েকজন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় এই মুহুর্তে তিনজন রয়েছেন। আমরা নতুন করে ভেটেরিনারি কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত