বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

গাজায় যুদ্ধাপরাধের তদন্ত

আইসিসির প্রধান কৌঁসুলিকে হুমকি দিয়েছিলেন মোসাদ প্রধান

  • একাধিক গোপন বৈঠকে আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলিকে হুমকি দেন সাবেক মোসাদ প্রধান
  • মোসাদের উদ্দেশ্য ছিল আইসিসির কৌঁসুলির সাথে সমঝোতা করা যাতে তিনি ইসরায়েলের দাবি পূরণে সহযোগিতা করেন।
আপডেট : ২৯ মে ২০২৪, ১১:১৭ এএম

যুদ্ধাপরাধের তদন্ত বাদ দিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান কৌঁসুলিকে হুমকি দিয়েছিলেন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান ইয়োসি কোহেন।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের তদন্ত থেকে সরে আসার জন্য একাধিক গোপন বৈঠকে আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলি ফাতু বেনসুদাকে চাপ দেন তিনি।

মঙ্গলবার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে ২০২১ সালে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেন আইসিসির তৎকালীন প্রধান কৌঁসুলি ফাতু বেনসুদা। সে সময় ওই তদন্ত বাদ দিতে তার সাথে গোপনে একাধিকবার যোগাযোগ করেন ইয়োসি কোহেন। বৈঠকগুলোয় বেনসুদাকে ব্যক্তিগতভাবে হুমকি দিয়েছিলেন মোসাদের তৎকালীন এই প্রধান। ওই তদন্তটির কাজ গত সপ্তাহে শেষ হয়েছে।

২০২১ সাল থেকে শুরু হওয়া তদন্তটি গত সপ্তাহে শেষ হয়েছে যখন আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলেন।

নেতানিয়াহুর পাশাপাশি তৎকালীন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং হামাসের তিন নেতার বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘মোসাদের প্রধান থাকাকালীন সময় থেকেই আইসিসির কৌঁসুলিদের বিরুদ্ধে নানা তৎপরতা শুরু করেছিলেন ইয়োসি কোহেন। আইসিসি সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিচ্ছে– এমন যুক্তিতে কোহেনের কার্যক্রমের ন্যায্যতা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান এই কর্মকর্তা।

অন্য আরেকটি ইসরায়েলি সূত্র বেনসুদার বিরুদ্ধে অভিযান সম্পর্কে গার্ডিয়ানকে জানায় যে, মোসাদের উদ্দেশ্য ছিল আইসিসির কৌঁসুলির সাথে সমঝোতা বা আপস করা যাতে তিনি ইসরায়েলের দাবি পূরণে সহযোগিতা করেন।

গার্ডিয়ানের তদন্তের সাথে যুক্ত তৃতীয় সূত্র জানিয়েছে যে, কোহেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর "বেসরকারী বার্তাবাহক" হিসাবে কাজ করছিলেন।

চতুর্থ সূত্র গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, বেনসুদা হুমকি ও কোহেনের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রভাবিত করার বিষয়টি সম্পর্কে আইসিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অবহিত করেছিলেন।

মোসাদপ্রধান বেনসুদাকে হুমকি দেন, ‘আপনার আমাদের সাহায্য করা উচিত এবং আমাদের আপনার যত্ন নেওয়া উচিত। আপনি এমন কিছুতে পড়তে চান না, যা আপনার বা আপনার পরিবারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।’

আইসিসির কৌঁসুলিকে ভয় দেখিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রচেষ্টা হিসেবে মোসাদ বেনসুদা এবং তাঁর পরিবারকে অপমানিত করার ঘৃণ্য কৌশল ব্যবহার করেছিল। তাঁর স্বামীর গোপন রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা তখন প্রসিকিউটরকে অসম্মান করার চেষ্টা করেন।

ইসরায়েলি সাময়িকী প্লাস ৯৭২ ও হিব্রু ভাষার গণমাধ্যম লোকাল কলের সঙ্গে মিলে এ অনুসন্ধান চালিয়েছে গার্ডিয়ান। এই অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এক দশকের বেশি সময় ধরে আইসিসির বিরুদ্ধে গোপনে যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, আমাদের কাছে পাঠানো প্রশ্নগুলো ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মিথ্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগে পরিপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে কোহেন মন্তব্যের অনুরোধের কোনো জবাব দেননি। এছাড়া আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলি বেনসুদাও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত