দেশে প্রতি ৫ জন থাইরয়েড রোগীর তিনজন নারী

আপডেট : ২৯ মে ২০২৪, ০৭:৩৯ পিএম

দেশে প্রতি পাঁচজন থাইরয়েড রোগীর তিনজনই নারী বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। তিনি বলেন, দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছে। প্রতি ৫ জন রোগীর ৩ জনই নারী। প্রতি ২ হাজার তিন শ শিশুর মধ্যে ১ জন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে। অথচ আক্রান্তদের ৬০ শতাংশই চিকিৎসার বাইরে।

আজ বুধবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী থাইরয়েড মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই তথ্য জানান। দ্য থাইরয়েড সেন্টার ও বিটমির যৌথভাবে ধানমন্ডির সুবাস্ত ইত্তেহাদ স্কয়ারের থাইরয়েড সেন্টারে এই মেলার আয়োজন করেছে। মেলা চলবে আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত। ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে বিশ্ব হাইরয়েড দিবসে থাইরয়েড মেলা হয়ে আসছে।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাইরয়েড সেন্টারের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী জানান, থাইরয়েড রোগ বিস্তারে বংশগতির প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে দাদি, নানি বা মা এদের থাইরয়েডে সমস্যা থাকলে শিশুদের ও আত্মীয়স্বজনদের থাইরয়েড সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ। এই ৭০ শতাংশের মধ্যে ৮ শতাংশই জানে না যে তারা ইতোমধ্যেই থাইরয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন। এসব রোগীদের সচেতন করা দরকার। কারণ নিরব ঘাতক থাইরয়েড তাদের শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, এখন রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি, মাইক্রোওয়েভ ও লেজার ব্যবহারের মাধ্যমে কোন কাঁটা ছাড়া শুধু সুইয়ের মাধ্যমে থাইরয়েড রোগীদের টিউমার অপসারণ করা যায়। মেলায় ২৫ শতাংশ কম খরচে রোগীদের টিউমার অপসারণ করা হচ্ছে। এই ধরনের চিকিৎসায় রোগীকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন পড়ে না, কিংবা রোগীকে হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন পড়ে না। এই পদ্ধতির কোনো বড় ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই, খরচও কম হবে। মেলায় ৩০০ টাকা ভিজিট দিয়ে থাইরয়েড চিকিৎসক দেখানো যাবে। ৩ হাজার টাকায় করা যাবে থাইরয়েড চেকআপ (রক্ত, আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং ব্লাড গ্রুপিং)। এ ছাড়া এক বছরের কম বয়সের শিশুদের বিনামূল্যে থাইরয়েড পরীক্ষা করা যাবে।

অনুষ্ঠানে জীবনে চার সময়ে অবশ্যই থাইরয়েড পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এগুলো হলো জন্মের পরপরই, বয়ঃসন্ধি কালে, মায়েদের গর্ভধারণের আগে ও বয়স ৪০ বছর হওয়ার পরপরই।

অনুষ্ঠানে জানানো হয় যদি কারো হঠাৎ ওজন বেড়ে যায় বা কমে যায়, অতিরিক্ত ঘাম হয়, শীত বা গরম অসহ্য লাগে, শরীর ব্যথা করে, চুল পড়ে যায়, ত্বকের সমস্যা থাকে- তাহলে ধরে নিতে হবে তিনি থাইরয়েডের ঝুঁকিতে আছেন। এ ছাড়া যদি বুক ধড়ফড় বা হাত-পা কাঁপে, গলার স্বর বসে যায়, পাতলা পায়খানা হয়, শারীরিক দুর্বলতা থাকে, নিঃসন্তান দম্পতি বা বারবার গর্ভপাত হয়, নারীদের অনিয়মিত বা কমবেশি মাসিক হয়, তাহলে অবশ্যই থাইরয়েড পরীক্ষা করতে হবে। এ সমস্যাগুলো থাকলে রোগীর থাইরয়েডের ঝুঁকি আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত