গ্রামীণ ব্যাংকের এক কোটির বেশি মানুষের সঙ্গে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীরা। এছাড়া ড. ইউনূসকে অর্থলোভী আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত, দুর্নীতি, পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে লাভবান করার অভিযোগ এনেছেন তারা।
আজ সোমবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন গ্রামীণ ব্যাংকের চিফ লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার।
অর্থ আত্মসাতের মামলায় গতকাল রবিবার ঢাকার একটি বিশেষ আদালতে হাজিরা শেষ ড. ইউনূস লোহার খাঁচায় হাজিরা দেওয়া নিজের অভিশপ্ত জীবনের অংশ বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া নোবেল বিজয়ী একটি প্রতিষ্ঠান (গ্রামীণ ব্যাংক) অন্য একজন নোবেল বিজয়ীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গত ২৬ মে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সহযোগীদের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করে গ্রামীণ ব্যাংক। তবে, এ অভিযোগের প্রতিবাদ জানায় ইউনূস সেন্টার। ইউনূস সেন্টারের বক্তব্যের পাল্টা যুক্তি তুলে ধরতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় গ্রামীণ ব্যাংকের আইনজীবী প্যানেল।
মাসুদ আখতার বলেন, উনি (ড. ইউনূস) অভিশাপের কথা বলেছেন। এই যে ১ কোটি ৫ লাখ নর-নারী যারা গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য তাদের সঙ্গে তিনি প্রতারণা করেছেন। তাদের অর্থ আত্মসাত করেছেন। তাদের অর্থকে তিনি ব্যাক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। তাদের অভিশাপ তার ওপর পড়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালীন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান প্যাকেজেস কর্পোরেশন লিমিটেডকে নিয়ম না মেনে প্রায় ৯. ৫ কোটি টাকা ঋন দিয়েছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি ড. ইউনূস ও তার পরিবারের মালিকানাধীন।
মিথ্যাচারকে ড. ইউনূস শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন উল্লেখ করে মাসুদ আখতার তাকে প্যাথলজিক্যাল লায়ার বলে আখ্যায়িত করেন। বলেন, এখন শুধু বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে। কিছুদিন পর বিদেশেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠবে। তিনি বলেন, ‘এমন একজন নোবেল বিজয়ী দেখান তো যিনি উনার মতো অর্থলোভী, ক্ষমতালোভী, কর্মচারীদের অত্যাচার করেছেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান, নিজেকে অর্থ বিত্তে লাভবান করেছেন সেগুলোর দালিলিক প্রমাণ আছে। উনি (ড. ইউনূস) কোর্টে, দুদকে গিয়ে প্রমাণ করুন যে সব তথ্য মিথ্যা।’
গ্রামীণ ব্যাংকের আইনজীবী প্যানেলের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ড. ইউনূসের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটা বিশেষ গোষ্ঠী সরকারের ওপর ভর করেছে। তার সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবেও একটা গোষ্ঠী জড়িত আছে। কারণ সারা পৃথিবীতে সমস্ত নোবেল বিজয়ীদের সারা পৃথিবীর নেতৃত্ব হবে বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ীয় মাধ্যমে। তারা এটা সহ্য করতে পারছে না বলেই ড. ইউনূসের নামে বদনাম ছড়ানো হচ্ছে।’
