রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

  • আসছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট
  • এবার বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪, ১১:২৭ এএম

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমন প্রতিশ্রুতি ছিল আওয়ামী লীগের। নির্বাচনের পর সচিবদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেও যেকোনো উপায়ে পণ্যমূল্য কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা। নির্বাচনের পর প্রথম বাজেটেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকছে মূল্যস্ফীতি। সঙ্গে থাকছে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নয়ন ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতির অস্থিরতার সময়ে এমন নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেই আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নিজের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন তিনি, যেটি হবে আওয়ামী লীগ সরকারের ২৪তম বাজেট।

চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বাড়ছে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। আসন্ন অর্থবছরের বাজেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সংস্থান হবে দেশি-বিদেশি ঋণ থেকে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর বাইরে সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অবশিষ্ট অর্থ নেওয়া হবে অন্যান্য উৎস থেকে।

ঘাটতি মেটাতে বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেবে ১ লাখ ২৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। যদিও প্রকৃত বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৯০ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়। কারণ বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যদিও চলতি অর্থবছরে বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। ঋণের ছাড় আগের তুলনায় খুব একটা না বাড়ায় এবার বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা সামান্য কমানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে সব মিলিয়ে ৬২৮ কোটি ডলারের ঋণ দেশে এসেছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ শতাংশ। বরাবরের মতো এবারও বেশিরভাগ আয় করতে হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এনবিআরকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত কর আসবে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা আর কর ছাড়া প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি থাকলেও সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে সরকারের ৪ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার কর রাজস্ব আদায় করার কথা। সে হিসেবে সরকারের ও আইএমএফের লক্ষ্য কাছাকাছিই থাকছে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ১৮ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে এডিপির আকার করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার রয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। গত মাসে তা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ১৪ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে আকার কমানো হয়েছে ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৪৭ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মূলত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দিতে গিয়ে বাজেটের আকার বাড়ানোর দিকে নজর দিতে পারেনি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৮ লাখ কোটি টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছেন দেশের ১৮তম অর্থমন্ত্রী। যেখানে আড়াই লাখ কোটি টাকারও বেশি বাজেট ঘাটতি পূরণে দেশি-বিদেশি ঋণ নিতে হবে। অতীতের রেকর্ড ভেঙে বাজেটের প্রায় ৬৪ শতাংশ অর্থ পরিচালন ব্যয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবার। একরকম বাধ্য হয়েই আরও ১৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে হবে ঋণের সুদ পরিশোধে। ফলে উন্নয়ন বরাদ্দে অর্থের বরাদ্দ নেমে এসেছে ৩০ শতাংশের আশপাশে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত