নরেন্দ্র মোদি কি জোট সরকার চালাতে পারবেন?

  • নীতীশ কুমার এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর সমর্থন পেলে তবেই সরকার গড়তে পারবে বিজেপি 
  • এই দুই নেতা বর্তমানে এনডিএ জোটে থাকলেও দুজনেই জোট বদল করতে সিদ্ধহস্ত
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪, ০৩:৫৬ পিএম

ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। ফল অনুযায়ী টানা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে মোদির বিজেপি। সরকার গঠনের জন্য লোকসভায় নূন্যতম ২৭২ টি আসন প্রয়োজন হয়।

গতকাল মঙ্গলবার লোকসভা নির্বাচনের ফল মোদির দল বিজেপি এককভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেলেও তাদের জোট এনডিএ তিন শ আসনও ছুঁতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দিয়ে সামনে উঠে এসেছে কংগ্রেসের উদ্যোগে গড়া ‘ইন্ডিয়া’ জোট।

সরকার গড়লেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিকে এখন থেকে হতে হবে পরমুখাপেক্ষী। অর্থাৎ প্রথমবারের মত জোট সরকার গঠন করতে হবে মোদিকে।

আর তাই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম পার্টির সমর্থন পেলে তবেই বিজেপি সরকার গড়তে পারবে। এই দুই নেতা বর্তমানে এনডিএ জোটে থাকলেও দুজনেই রাজনৈতিক কৌশল আর জোট বদল করতে সিদ্ধহস্ত। আর এই কারণেই এখনও চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না মোদি।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর প্রধান নীতীশ কুমার একটা সময়ে বিজেপির জোট সঙ্গী থাকলেও তিনি কয়েক বছর আগে এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন এবং বিজেপি-বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোট গঠনের অন্যতম কারিগরও ছিলেন তিনি। তবে এবছরের জানুয়ারিতে আবারও জোট বদল করে এনডিএ-তে যোগ দেন তিনি। বিহারে এখন এনডিএ-র সঙ্গে সরকার চালাচ্ছেন তিনি, এবং লোকসভা নির্বাচনেও এই জোটে সামিল ছিল তার দল।

জেডি (ইউ) বিহারে ১২ টি আসন জিতেছে, এতটা তারা প্রত্যাশা করেননি। আবার বিজেপিও সে রাজ্যে ১২টি আসন পেয়েছে। এনডিএ-র অন্যান্য সঙ্গীদের মধ্যে এলজেপি (রাম বিলাস) পাঁচটি এবং জিতন রাম মাজির দল একটি আসন পেয়েছে। অর্থাৎ বিহারে এনডিএ পেয়েছে মোট ৩০টি আসন।

পূর্ণিয়ায় নির্দল প্রার্থী পাপ্পু যাদব একটি আসনে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম পার্টি বা টিডিপি পেয়েছে ১৬টি আসন।

ঘটনাচক্রে, নীতীশ কুমার এবং চন্দ্রবাবু নাইডু দুজনেই কিছুদিন আগে পর্যন্ত মোদী সরকার-বিরোধী অবস্থানে ছিলেন। সেই কারণেই এনডিএ জোটে তারা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। সরকার গঠন করতে হলে মি. মোদী ও বিজেপিকে এখন পুরনো এই জোটসঙ্গীদের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে।

মোদীর সামনে এখন যে চ্যালেঞ্জ

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরনোর পরে এই দুই নেতা এখন হয়ে উঠেছেন ‘কিংমেকার’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীতীশ কুমার এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর ছাড়া এই সরকার চলতে পারবে না এবং নীতীশ কুমার তো হাওয়ার দিক বদলের মতো জোট বদলিয়ে ফেলেন।

তারা দুজনেই পুরানো ওস্তাদ খেলোয়ার এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। দুজনেরই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা রয়েছে। এই ক্ষমতার সমীকরণে জোটে থাকতে তারা নিজেদের পাওনা গণ্ডা বুঝে নেবেন ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

ক্ষমতার বি-কেন্দ্রীকরণ হবে

গত ১০ বছর যখন সরকার চালিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, তখন ক্ষমতা পুরোটাই তার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের হাতেই থেকেছে, অন্য কেউ ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন না। কিন্তু এখন জোট সরকার হলে সেখানে অন্যরাও অংশগ্রহণ করবে, তাদের কথাও শুনতে হবে, তবেই সরকার চলতে পারবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর অর্থ হল জোট ধর্ম মেনে, বাজপেয়ী মডেল যদি গ্রহণ করা হয়, তবেই সরকার চালনা সম্ভব হবে। তাদের মতে জোট সরকারে কাজ করার কোনও অভিজ্ঞতাই নেই মোদির। গত ২২ বছরে তিনি তিনবার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী এবং দুবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে একরকম একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে কাজ করেছেন।

আর তাই হঠাৎ করে সমন্বয় করে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাজনীতি করা তার কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এই নতুন কাজের ধরণ তিনি কতটা গ্রহণ করতে পারবেন, তার ওপরেই এই সরকারের স্থায়িত্ব নির্ভর করছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত