জাতীয় সংসদে ৫৩তম বাজেট পেশ করেছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন তিনি। প্রস্তাবিত বাজেটে টাকার অঙ্কে বাড়লেও জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) অনুপাতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের তুলনায় কমেছে। শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ জিডিপির তুলনায় ১ দশমিক ৬৯ শতাংশের কথা বলা হয়েছে।
ইউনেসকোর পরামর্শ, একটি দেশের মোট জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা উচিত। যার ধারেকাছেও নেই বাংলাদেশ। ক্রমেই তা কমছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকার শিক্ষা খাতে ৮৮ হাজার ১৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল, যা মোট বরাদ্দ ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ০৮ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ১৮৯টি সদস্য দেশের মধ্যে যে ১০টি দেশ অর্থনীতির আকারের তুলনায় শিক্ষা খাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেয়, বাংলাদেশ তার একটি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা খাতের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিক্ষা খাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভুটানের বিনিয়োগ ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, আফগানিস্তানের ৪ দশমিক ১ এবং ভারত ও পাকিস্তান বরাদ্দ দেয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ। মিয়ানমার জিডিপির ২.১ শতাংশ, উগান্ডা জিডিপির ২.২ শতাংশ, কম্বোডিয়া ২.৫ শতাংশ, সেনেগাল ৫.২ শতাংশ, ইথিওপিয়াও জিডিপির ৫.২ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছে শিক্ষা খাতে।
চলতি অর্থবছরে সরকার শিক্ষা খাতে ৮৮ হাজার ১৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। চলতি অর্থবছরের মোট বরাদ্দের তুলনায় আগামী অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ৯৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেছে সরকার, যা মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় ৪৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলমান ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রয়েছে ৪২ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। এবার বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ১১ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রয়েছে ১০ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। এ হিসাবে এবার ১ হাজার ১৮১ কোটি টাকা বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষায় চলতি বছরের তুলনায় আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ হাজার ৯৭ কোটি বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩৮ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। আগের অর্থবছর এ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘আমাদের সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মানব উন্নয়ন সূচকে ভারত এবং পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ ১৯২টি দেশের মধ্যে ১২৯তম স্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছে।
